যশোর জেলায় ১৯১০ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা

এস আর নিরব যশোরঃ
যশোর জেলায় কৃষকরা শীতকালীন পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পিয়াজের চাহিদা থাকায় ভালো থাকায় এই চাষের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন চাষীরা। এ মৌসুমে সাধারণত নভেম্বর মাসের শুরুতে পেঁয়াজ চাষ শুরু হয়। কিন্তু এ বছর অসময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ডিসেম্বর মাসে শুরু হয়েছে। এখন চলছে পুরোদমে আবাদ।

পেঁয়াজ তরকারিতে মসলা হিসেবে ব্যবহার হয়। বেশির ভাগ মানুষের কাছে পেঁয়াজ প্রিয় সবজি। গ্রীষ্ম-শীত উভয় ঋতুতেই পেঁয়াজের চাষ হয়। তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়। শীত মৌসুমে পেঁয়াজ চাষের উপযুক্ত সময়।

পেঁয়াজ দুইভাবে চাষ করা হয়। একটি চাষ পদ্ধতি চারা তৈরি করে উৎপাদন। অপরটি বীজ থেকে উৎপাদন। এখন বেশি হচ্ছে চারাগাছ রোপণ চাষ। চলতি রবি মৌসুমে যশোর জেলার ৮ উপজেলায় ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৮৩১ মেট্রিকটন। এরমধ্যে মণিরামপুর উপজেলা সর্বোচ্চ পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩০ হেক্টর জমিতে, সদর উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমি, শার্শা উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমি, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৫৪০ হেক্টর জমি, চৌগাছা উপজেলায় ৪৬০ হেক্টর জমি, অভয়নগর উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমি, বাঘারপাড়া উপজেলায় ৭০ হেক্টর জমি, ও কেশবপুর উপজেলায় চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয় ১২০ হেক্টর জমিতে।

সূত্র আরও জানায়, গত মৌসুমের (২০২০-২০২১) চেয়ে চলতি মৌসুমে (২০২১-২০২২) ২০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১৭০০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন হয়েছিলো ২০ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন।

মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারে পেঁয়াজের চারা বিক্রি করতে আসা একই উপজেলার কাশিপুর গ্রামের আবুল কাসেম (৫৫), কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের মিন্টু (৫০) ও হাসাডাঙ্গা গ্রামের মাহাবুর রহমান (৪৫) জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিজের জমিতে চারা উৎপাদনের পর বিক্রি করি। আবার কিনেও বিক্রি করি। আমরা শুধু রাজগঞ্জ বাজারে না, বিভিন্ন হাটবাজারে পেঁয়াজের চারা বিক্রি করি।

রাজগঞ্জের হরিহরনগর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক আয়নাল হোসেন (৪৫) জানান, এখন শীতকালীন পেঁয়াজ চাষের জন্যে ক্ষেত প্রস্তত করেছি। রাজগঞ্জ হাটে এসেছি পেঁয়াজের চারা কিনতে। এখান থেকে চারা কিনে ক্ষেতে রোপণ করবো। একই ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের আরেক কৃষক নিছার আলী (৪০) , হানুয়ার-খালিয়া গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান (৫০) বলেন, শীতকালীন পেঁয়াজের চারা ক্ষেতে রোপণ করেছি। আশা করছি ফলন ভালো হবে।

এ বিষয়ে,স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এসএম মারুফুল হক বলেন, আমরা মাঠে মাঠে গিয়ে কৃষকের সার্বিক সহযোগিতাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই মৌসুমে সব ধরনের আবাদ ভালো হবে। এজন্যে কৃষি বিভাগ সর্বক্ষণ কৃষকের পাশে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ৬০০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিলো। এরমধ্যে প্রণোদনার মাধ্যমে ছিলো ৪০০ হেক্টর জমি। ভালো একটা শুভ লক্ষ্মণ ছিলো। এরমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অনাবরত বৃষ্টিপাতে অর্ধেক পেয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে শীতকালীন পেঁয়াজ ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যদিও দেরিতে চাষ হয়েছে। তারপরও ১ হাজার ৭৩ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের ভালো দাম আছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলেও কাছাকাছি চলে যাবে। চারা পরবর্তীতে কিছু উৎপাদন হয়েছে। বাজারে চাহিদা মোতাবেক প্রচুর চারা আছে। এবার শীত ভালো। কুয়াশার পরিমানও তুলনামূলক কম। শীতের কারণে যদি পেঁয়াজ উৎপাদন দীর্ঘায়িত হয় পেঁয়াজ ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদী। এ ছাড়া সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *