সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে বেধড়ক পেটালো চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী

চুয়াডাঙ্গাঃ
চুয়াডাঙ্গায় সংবাদ প্রকাশের জেরে আহসান আলম নামে এক সংবাদকর্মীকে বেধড়ক পিটিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মী। রোববার (০২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভেতরেই সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম করে। পরে সাংবাদিক আহসান আলমকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়। এঘটনার পর সাংবাদিক আহসান আলম বাদি হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। আহসান আলম চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পশ্চিমাঞ্চলের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।
অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় রাসেল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় গ্রামের দক্ষিনপাড়ার সাগরের ছেলে। সে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ওয়ার্ডবয় হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, রোববার (০২ জানুয়ারি) “চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রাসেলের সাথে আস্থা প্রকল্পের আয়া বৃষ্টির অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ” শিরোনামে পশ্চিমাঞ্চল পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। রোববার সকাল ১০ টার দিকে আহসান আলম চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভেতরে চা পান করে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় (আউটসোর্সিং) রাসেল তার এবং বৃষ্টির অনৈতিক বিষয় সংবাদ পত্রে প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে আহসান আলম সম্পাদকের সাথে কথার জন্য পরামর্শ দেন। পরে রাসেল ক্ষীপ্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে।
সাংবাদিক আহসান আলম বলেন, সকালে ওয়ার্ডবয় রাসেল আমাকে প্রথমে হুমকি দিয়ে আরএমও’র কক্ষে চলে যায়। পরে মোবাইলে কথা বলতে বলতে এসে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাশ দিয়ে জনসম্মুখে বেধড়ক মারধর করে। পরে হাসপাতালে থাকা নিয়োজিত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় আমাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফাতেহ আকরাম বলেন,
আয়া বৃষ্টির জন্য ওই ওয়ার্ডবয় ও তার স্ত্রীর মনোমালিন্য হয়েছিল। এ কারনে আয়া বৃষ্টিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। পরে তাদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে গেছে৷
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের ভেতরে ঘটনাটি হওয়ায় আসলেই দুংখজনক। এ জন্য আমরা গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখছি৷ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আলামিন ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান কচি বলেন, সাংবাদিকদের উপরে হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানায়। অতিলম্বে আসামীকে গ্রেফতার করে আইনের আওয়ায় আনার জোর দাবি করছি।
বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন বলেন, অবশ্যই এটি নিন্দযোগ্য অপরাদ। ঘটনার সাথে জড়িত স্বাস্থ্যকর্মী রাসেলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, এঘটনায় সকালে সংবাদিক আহসান আলম বাদি হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।আসামীকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *