এই অসহায় পরিবারের ৫ সদস্যের জন্য ১০ পিচ টিনের ব্যাবস্থা হবে কি?

মাজেদ রেজা বাধনঃ- ছবিতে দেখছেন ঝিনাইদহ সদরের হলিধানী ইউনিয়নের গাড়ামারা গ্রামের পানি পথে মালয়েশিয়া যাবার উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে নিখোঁজ আবু বক্কার অরপে বাক্কার স্ত্রী’ রেশমা খাতুনের বসতবাটি। পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের অমর সৃষ্টি ‘আসমানী’ কবিতার আসমানীদের বাড়িকেও হার মানায় এই বাড়িটি।স্বামীর পৈতিৃক সম্পত্তি হিসাবে এই ভিটা বাড়িটুকুই একমাত্র সম্বল। এর বাইরে তার কোন জমিজমা বা সম্পদ নাই। বৃদ্ধা শ্বাশুড়ী ও তিন সন্তান মোট পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তাদের এই করুন সংসার। পরিবারের ৫ সদস্য একমাত্র এই ঘরটিতে থাকে। অসহায় এই মহিলাটি অন্যের কলাই তোলা, পিয়াজ কাটা, গৃহস্থের বাড়িতে নানাবিধ কৃষি কাজ করে যা আয় হয়, একটি বিধবা ভাতা কার্ড থেকে যে সহযোগিতা পায় এবং বড় ছেলেটা স্কুল মাঝে মাঝে কামাই দিয়ে অন্যের ক্ষেতে কৃষি কাজ করে যা পায় তা দিয়ে একবেলা খেয়ে কোন বেলা না খেয়ে এই ঘরটিতে জীবন যাপন করে। কিন্তু গত পরশ সন্ধ্যায় কালবৈশাখীর দমকা ঝড়ে তার মাথার উপরের জং ধরা ছিদ্র পুরাতন টিনগুলো উড়িয়ে নিয়ে দুমড়ে মুছড়ে ফেলেছে। অন্ধকার রাতে যখন তার ঘরের টিন উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখন তার ছোট দুইটি সন্তান ভয় পেয়ে কান্নাকাটি করছিলো বলে সে জানায়। ঝড় চলাকালিন সে তার ছোট বাচ্চা দুটি চৌকির নিচে রেখে পলিথিন দিয়ে ঢেকে সান্তনা দিচ্ছিলো। কাঁথা কাপড় সব ভিজে গিয়েছিলো। বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ”জমি আছে ঘর নেই” প্রকল্পে অনেক আগেই ঘরের জন্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে নিজে হাজির হয়ে একটি ঘরের জন্য আবেদন করেছে কিন্তু এখনও তার কোন ব্যাবস্থা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের একটু সুদৃষ্টি পারে মাত্র ১০ পিচ টিন দিয়ে এই অসহায় পরিবারের মাথার উপরের টিনের ব্যাবস্থা করে তাদের একমাত্র মাথা গুজার ঠাঁই নামক ঘরটিকে ঠিক করে দিতে। এবিষয়ে হলিধানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ রশিদ এর সাথে যোগাযোগ করলে সে জানায় রেশমা খাতুন ইউএনও বা ডিসি বরাবর আবেদন করলে আমি সুপারিশ করে দিব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here