৭১ এর স্মৃতিসৌধের গ্রিল উধাও, দেখছেনা কেউ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিসৌধ যেটি ১৯৭১ সালের নরকীয় হত্যাযজ্ঞের স্বাক্ষর বহন করেছে সেটি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের খুনিয়াদিঘী স্মৃতিসৌধ।

উপজেলা পরিষদ হতে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত সাদা রং করা প্রাচীর বেষ্টিত স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্য বাড়ানো এবং নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হয়েছিল লোহার তৈরি গ্রিল। আর এখন সেই স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তাবেষ্টনীর লোহার গ্রিল উধাও হয়ে গেছে। যে স্মৃতিসৌধ ১৯৭১ সালের স্মৃতি বহন করে সেই স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি নিরাপত্তার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তা বেষ্টনীর ইটের প্রাচীরের মাঝে স্থাপিত লোহার অনেক গ্রিল নেই। প্রাচীর জুড়ে যে কয়েকটি লোহার গ্রিল রয়েছে তাদের মাঝখানের লোহাগুলো নেই। যা নিরাপত্তার অভাবে চুরি হয়ে যাচ্ছে। চুরি হওয়ার ফলে এদিকে সৌন্দর্য এমনকি স্মৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে এই স্মৃতিসৌধের। এমনকি স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্য বর্ধনের টাইলসও তুলে ফেলা হয়েছে।

“রাণীশংকৈলের মুক্তিযুদ্ধ” নামক বই হতে জানা যায় যে, খানসেনারা স্থানীয় পীস কমিটির তথ্য মোতাবেক এইখানে আনুমানিক প্রায় ৪ হাজার নিরীহ জনগণকে হত্যা করেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সঠিক তদারকির অভাব এবং মাদকসেবীদের বিচরণের কারণেই এমনটা ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসন একটু শক্তভাবে এখানে নজর রাখলেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত জায়গাটির স্থাপনাগুলো নিরাপদে থাকত।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান বলেন, ‘খুনিয়াদীঘি স্মৃতিসৌধের মূল্যবান সামগ্রী দিনের পর দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু গ্রিল চুরি হয়েছে।

কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জানান,,আমাদের জীবজদ্দশায় যদি আমরা এরকম দেখি তাহলে আমরা মারা গেলে মনে হয় এই স্মৃতিসৌধের চিহ্ন আর থাকবে না

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির বলেন, ইতিমধ্যে স্মৃতিসৌধটি নিরাপত্তার মধ্যে আনার লক্ষ্যে সিসিটিভি স্থাপনের কাজ চলছে। সিসিটিভি স্থাপন হলে চুরি রোধ হবে।

সবুজ/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.