হয়রানি কমাতে কুমারখালীতে আনুষ্ঠানিকভাবে এইচএসসির সনদপত্র প্রদান

কৃতকার্যের সনদপত্র প্রদানের সময় মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে বিভিন্ন অংকের অর্থের দাবি করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা। সনদপত্রটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বাধ্য হয়ে অর্থের বিনিময়ে গ্রহণ করে থাকেন শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ আবার প্রভাবশালী নেতাকর্মী, পরিচালনা পরিষদের সভাপতি – সদস্য, শিক্ষকদের কাছে ছুটাছুটি করেন। এতে শিক্ষার্থীরা অর্থনৈতিক, শারীরিক, মানসিকসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হন।

সেজন্য শিক্ষার্থীদের হয়রানি কমাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৬ আগস্ট) সকালে কলেজের সভা কক্ষে ২০২০ সালে এইচ এস সি পরীক্ষায় কৃতকার্য সাধারণ ও বিএম শাখার ৩৭১ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র প্রদান করা হয়।

প্রদান অনুষ্ঠানে অত্র কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জান্নাতুন নাহারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ানম্যান আলাউদ্দিন আহমেদ জামাল সরকার, অত্র কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাজিদুল ইসলাম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, মো. আব্দুল আলীম, বাবু কার্তিক কুমার বিশ্বাস, হামিদুল হক খানসহ প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জান্নাতুন নাহার বলেন, ‘পাশের সনদ নিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অংকের টাকা দিতে হয়। তাঁরা বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে ছুটাছুটি করে বেড়ায়। বিভিন্ন সময় অপমানিত লাঞ্চিত হয়। তাই হয়রানি কমাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র প্রদান করা হলো। ভবিষ্যতেও কলেজে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদপত্র প্রদান করা হবে।’

অপরদিকে বিনামূল্যে ও হয়রানির শিকার না হয়ে সনদপত্র পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা। তাঁরা দাবি করেন শুধু বাঁশগ্রাম নয়, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেন আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে সনদপত্র প্রদান করা হয়।

শনিবার বাঁশগ্রাম কলেজে সনদপত্র নিতে এসেছেন মোছা. শাম্মী আক্তার। তিনি বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। তিনি বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার সনদপত্র নিতে স্কুল টাকা নিয়েছিল। আমাদের কলেজেও বিগত বছর গুলোতে টাকা নিয়েছিল। কিন্তু এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র প্রদান করা হলো। কোনো টাকা লাগেনি। শিক্ষার্থীরা খুব খুশি।

মোশারফ/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.