October 1, 2022

পরিকল্পনা মতো প্রেমিকাকে নিয়ে আসেন পরিত্যক্ত টয়লেটের পাশে। এরপর আনা হয় ইট। ইট দিয়ে একে একে ১৫ বার আঘাত করে থেঁতলে দেয়া হয় মাথা। খুনের পর প্রেমিকার লাশের পাশে বসেই করেন গাঁজা সেবন। পরে গাঁজার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় প্রেমিকার শরীর। লাশটি অর্থ পোড়া হওয়ার পর পালিয়ে যান মাহিবুর।

বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করাতেই প্রেমিকা হাসিনা আকতার সুমিকে খুনের পরিকল্পনা করে মাদকাসক্ত মাহিবুর কামাল। র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর এভাবে প্রেমিকাকে খুনের লৌমহর্ষক বর্ণনা দিলেন মাহিবুল। এরআগে শনিবার নেত্রকোনা থেকে মাহিবুরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত টয়লেট গত ১১ মার্চ রাতে সুমিকে খুন করে মাহিবুর। পুলিশ পরদিন তার লাশ উদ্ধার করে। খুনের পর পরই কাপ্তাই থেকে পালিয়ে নেত্রকোণায় আত্মগোপন চলে যান মাহিবুর। পরে সুমির মোবাইল কলের সুত্র ধরে সন্ধান মেলে খুনির।

র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লে কর্ণেল এম এ ইউসুফ বলেন- অনৈতিক সম্পর্ক, পারিবারিক অশান্তি, মাদক ব্যবসা এবং মাদকের কারণেই খুন হয়েছে সুমি। প্রযুক্তির সাহায্যে খুনীকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের আদ্যপান্ত বর্ণনা দিয়েছেন।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, দ্বীন ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ১২ বছর আগে বিয়ে করেন সুমি। হাসিনা থাকতেন কাপ্তাইয়ে আর দ্বীন ইসলাম থাকতেন বান্দরবন। নানান বিষয়ে মনোমানিল্য ছিলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন সুমি। বিষয়টা স্বামী জানতে পেরে খুনের ছয় মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

খুনের এক মাস আগে মাদকাসক্ত মাহিবুরের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সুমি। এরপর বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে সুমিকে খুনের পরিকল্পনা করে মাহিবুর। পরে তাকে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত টয়লেটে এনে খুন করে।

সুমির মা আমেন বেগম বলেন, পারিবারিক অশান্তির কারণে সুমি মাদক ব্যবসাসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। মাদক ব্যবসা থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে ফিরে আসতে দেয়নি।

বার্তাবাজার/না. সা.

Leave a Reply

Your email address will not be published.