স্বামীর মাথা কেটে ব্যাগে ভরে ঠাকুর ঘরে ঝুলিয়ে রাখলেন স্ত্রী!

গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো দা দিয়ে স্বামীর মাথা কেটে ঠাকুর ঘরে ঝুলিয়ে রাখলেন স্ত্রী। শুক্রবার ত্রিপুরার খোয়াইয়ের রামচন্দ্রঘাটের ইন্দিরা কলোনিতে এঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্ত্রী সাবিত্রী তাঁতি (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, মানসিক বিকারগ্রস্ত সাবিত্রী ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো দা দিয়ে প্রথমে স্বামীর গলার নলি কেটে দেন। পরে ধীরে ধীরে মাথাটি পুরোপুরি আলাদা করেন শরীর থেকে। এরইমধ্যে একই ঘরে শুয়ে থাকা তার এক ছেলের ঘুম ভেঙ্গে গেলে ঘটনাটি দেখে হাউমাউ করে চিৎকার দিয়ে তার মামাকে ডেকে তোলে। বিষয়টি শুনেই ভয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যান মামা ব্রজেন্দ্র তাঁতি।

তবে, এমন পরিস্থিতেও থেমে থাকেননি তিনি। স্বামীর মাথা আলাদা করার পর ব্যাগে ভরে সেই মাথাটিকে নিয়ে ঠাকুর ঘরে ঝুলিয়ে দেন সাবিত্রি। এলাকায় এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই সৃষ্টি হয় আতঙ্কের। সাথে সাথে কেউ এগিয়ে না এসে পুলিশকে খবর দেয়।

জানা যায়, সাবিত্রী দীর্ঘদিন যাবতই এলাকায় সাধিকা হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রায় সময়ই তিনি ব্যস্ত থাকেন বিভিন্ন পূজা-অর্চনা নিয়ে। নিরামিষ খেয়েই দিন যাপন করতেন সাবিত্রি। কিন্তু শুক্রবার (১১ মার্চ) ঘটনার দিন হঠাৎই আমিষের প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। ঘটনার দিন তিনি মাংসও খেয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবারের লোকেরা।

নাবালক দুই ছেলেসহ সাবিত্রীর ভাই ব্রজেন্দ্র তাঁতি জানিয়েছেন, গত দু-তিন দিন যাবত সাবিত্রীর মানসিক বিকারগ্রস্থতা নজরে আসে তাদের। তাই স্থানীও এক ওঝাকে দেখানো হয় তাকে।

এদিকে শেষ রাতে খুনের ঘটনার খবর পেয়ে খোয়াই থানার পুলিশ রামচন্দ্রঘাটের ইন্দিরা কলোনি এলাকায় ছুটে যায়। যদিও মরদেহটি উদ্ধার করাসহ অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতে অনেকটাই সময় লেগে যায় তাদের। পরে পুলিশ মরদেহ মর্গে পাঠিয়ে অভিযুক্তকে লকআপে নিয়ে রাখে।

পুলিশ জানায়, পুরো ঘটনাটিই তদন্তাধীন রয়েছে। থানার বড়বাবু উদ্যম দেববর্মা শনিবার দুপুরে জানান, আপাতত ৩০২ ধারায় একটি মামলা নিয়ে এদিনই অভিযুক্তকে খোয়াই জেলা দায়রা আদালতে তোলা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসার ফিরে না আসা পর্যন্ত এর চেয়ে বেশি কিছুই বলা যাচ্ছে না।

বার্তাবাজার/না. সা.

Leave a Reply

Your email address will not be published.