সুইসাইড নোট লিখে স্কুলছাত্রী ‘আত্মহত্যা’

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় সুইসাইড নোট লিখে এক স্কুলছাত্রী ‘আত্মহত্যা’ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ওই ছাত্রী সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়।

ওই নোটে ওই ছাত্রী তার সঙ্গে এক তরুণ খারাপ কিছু করেছেন এবং তার মৃত্যুর জন্য ওই তরুণকে বিচার করার কথা বলেছে সে। ওই ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত তরুণের বিচারের দাবিতে আজ শুক্রবার সকালে মেলান্দহ থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন ওই ছাত্রীর স্বজন ও গ্রামবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ত। গতকাল দুপুরে সে বিদ্যালয় থেকে ফেরে। সন্ধ্যার পর নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলে থাকতে দেখেন স্বজনেরা। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।

ওই ছাত্রী যে সুইসাইড নোট রেখে গেছে, তাতে বলা হয়, স্থানীয় এক তরুণ তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার ওই তরুণ তাকে আশ্বাস দেন, যদি সে একবার দেখা করে, তাহলে তার জীবন থেকে তিনি সরে যাবেন। কিন্তু দেখা করতে যাওয়ার পর তার সঙ্গে তরুণটি খুব খারাপ কিছু করেছেন, যা বলার মতো নয়। ওই ছাত্রী লেখে, ‘বাবা ও মা তোমরা ভালো থেকো। আমারে ভুলে যেয়ো, আমি বেঁচে থাকলে তোমাদের সম্মান শেষ হয়ে যেত।’ সুইসাইড নোটে ওই ছাত্রী তার মৃত্যুর জন্য ওই তরুণের বিচার করার কথা বলেছে।

আরো একটি সুইসাইড নোট লেখেন, “মা- বাবা ওয়াহার চেয়ারম্যানের ভাতিজা আজকে সারাদিন এক রুমে কাটাইছে। ও আমাকে খুব ডিস্টার করতো। ও আমারে বলছে ওর সাথে দেখা করলে ও আমার জীবন থেকে চলে যাবে। কিন্তু ও আমার সাথে খুব খারাপ কিছু করছে বলার মতো না। বাবা-মা তোমরা ভালো তোমরা ভালো থেকো। আর ছেলেটির নাম, তামিম আহমেদ শপন খান।

ওই ছাত্রীর বাবা আবু সাঈদ বলেন, ‘আমার মেয়ে মেধাবী ছাত্রী ছিল। অত্যন্ত নম্র-ভদ্র ছিল। এটা কীভাবে ঘটল, কিছুই বুঝতে পারছি না। চিঠির মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আমার মেয়ের সাথে খুব খারাপ কিছু হয়েছে। এভাবে আমার মেয়েটার জীবন যাবে, আমি এটা ভাবতেই পারছি না। ওই ছেলের কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ওই ছেলের বিচারের কথাও বলেছে আমার মেয়ে। থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ওই ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এম ময়নুল ইসলাম বলেন, মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই ছাত্রীর বাড়ি থেকে সুইসাইড নোট ও তার মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ছাত্রীর বাবা একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

ইমরান/বার্তাবাজার/এম.এম

Leave a Reply

Your email address will not be published.