সাইবার চ্যালেঞ্জ: কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ

ডিজিটালাইজেশনে অনেকদূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। সরকারি-বেসরকারি সব সেবা এখন অনলাইনে। সবকিছু ডিজিটাল করার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার চ্যালেঞ্জও বেড়েছে অনেকগুণ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে আছে আমাদের আর্থিক খাত। এজন্য এখন প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ ‘সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি’। যে এজেন্সির অধীনে থাকবে একাধিক ইউনিট।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। আইসিটি বিভাগের ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সিকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সাইবার হামলা ঠেকাতে তাদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

গত অক্টোবরে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে একাধিকবার সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে সরকারি একটি সংস্থার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। সরকারের আইসিটি বিভাগের ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির অধীনে কাজ করা বিজিডি ই-গভ সার্ট তাদের ওয়েবসাইটে গুপ্তচরবৃত্তির চেষ্টার তথ্য প্রকাশ করে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির পরিচালক (অপারেসন্স) তারেক বরকতউল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের সাইবার হুমকি গোয়েন্দা ইউনিট সম্প্রতি এপিটি-সি-৬১ (APT-C-61) নামে একটি গ্রুপের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেছে। তাদের এ ধরনের তৎপরতা ২০২১ সালের মাঝামাঝি থেকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাসহ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গোপন তথ্য চুরি করা সন্দেহজনক গ্রুপটির লক্ষ্য। এই তথ্য চুরি করে তারা ওই প্রতিষ্ঠানকে আক্রান্ত করতে চেয়েছিল, নাকি চুরি করা তথ্য কারও কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিল সেটা জানা যায়নি। অপরাধীরা ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে। এই হামলাকারীরা ঠিক কোন প্রতিষ্ঠানের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, সেটা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। এছাড়া কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানও আমাদের কাছে নিজেদের সাইটে সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে জানায়নি। এখন পর্যন্ত এই গ্রুপের কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।’

বিজিডি ই-গভ সার্ট তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইটে জানিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক গ্রুপটির লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাসহ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গোপন তথ্য চুরি করা। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করে, তাহলে সার্ট টিমকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল, তাদের এখনই সতর্ক হতে হবে।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার ইত্তেফাককে বলেন, ‘সার্ট যে তথ্য দিয়েছে সেটা আমাদের অনেক বেশি গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। আমরা তো এখন সবকিছুই ডিজিটালাইজেশন করে ফেলেছি। ফলে আমাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকি যে আছে, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। যে কেউ এখন এটা হ্যাক করতে পারলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে উলটপালট করে ফেলতে পারে। এমনকি টাকাও চুরি করে নিয়ে যেতে পারে। আসলে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যম নিয়ে আমরা অনেক বেশি ব্যস্ত সময় পার করছি, আসলে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও অনেক বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার। সরকার এখন সেদিকে নজর দিচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.