সরকারি খালের বুকে দুই জনপ্রতিনিধির বাঁধ

প্রায় দুই যুগ আগেও প্রবাহমান ছিল খালটি। গভীরতাও ছিলো বেশ। কিন্তু খালের এক মাথায় রয়েছে জলকপাট অপর প্রান্ত আটকা পরেছে বেড়িবাঁধে। ফলে বেড়িবাঁধের প্রান্তে শ্রোত থাকায় দিন দিন খালটির নাব্যতা হাড়িয়েছে। এতে করে বর্ষা মৌসুমে যেমন পানি নিষ্কাশনে বাঁধা পরতো তেমনি শুকনো মৌসুমেও পানি শুকিয়ে চৌচির অবস্থা। আর এ অবস্থায় ফসলি জমিতে পানি সংঙ্কট হয়ে পরে। ফলে এলাকাবাসি কৃষকের দাবি খালটি পুণ:খনন করে পানির শ্রোতধারা স্বাভাবিক করা হোক।

কিন্তু এলাকাবাসির এমন দাবির বিপরীতটাই ঘটাচ্ছে স্থানীয় দুই জনপ্রতিনিধি। স্থানীয় কয়েকজন দখলদারের সাথে তাল মিলিয়ে তারাও দিয়েছেন সরকারি খালের বুকে বাঁধ। করছেন মৎস্য ঘের নির্মাণ। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ছোটবাইশদিয়া ও কাউখালী গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে চলা ডাঙ্গার খালে স্থানীয়দের বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরির পর এবার বাঁধ দিয়ে দুই জনপ্রতিনিধির মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের ইস থেকে উত্তর ছোটবাইশদিয়া গ্রামের বসির প্যাদার বাড়ী পাশে ওয়াপদা রাস্তা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খালটি ডাঙ্গার নামে পরিচিত।

খালের পশ্চিম মাথা অর্থাৎ বসির প্যাদার বাড়ী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে খালের স্বাভাবি শ্রোতধারা না থাকায় ভরাট হয়ে গেছে খালটি। এদিকে পশ্চিম মাথায় ওয়াপদা

রাস্তার (বন্যা নিয়ন্ত্রক বাঁধ) সাথেই স্থানীয় কয়েকজন মিলে খালে বাঁধ দিয়ে বালু ভরাট, পুকুর তৈরি এবং মাছের ঘের করে নিয়েছেন। শুধু সাধারণ লোকজনই না তাদের পাশাপাশি দুই জনপ্রতিনিধি একত্রিত হয়ে মহিলা মেম্বরের বাড়ির পাশে খালে বাঁধ দিয়ে ঘের নির্মাণ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মধ্য বয়সী নারী বলেন, প্রথমে রাস্তারধারে ইউনুস শিউলি নামের একজনে বালি ভইরা নিজের জায়গা করছে পরে বসির প্যাদা পুকুর করছে, তারপর অসিম প্যাদা, মিজানুর হাওলাদের পুকুর আর এ্যাহন নতুন কইরা মহিলা মেম্বর আর মিন্টু মেম্বর মাটি কাইট্টা ঘের
বানাইতাছে।

একই এলাকার হাসান মৃধা নামের আরেকজন বলেন, দীর্ঘদিন খালে পানি চলাচল বন্ধ থাকায় খালটি এখন মৃত প্রায়। এতে আমাদের এলাকার কৃষকের ফসল ফলানোর পাশাপাশি চাষবাস করতে খুবই সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। খালটি পরিকল্পিতভাবে খনন করা উচিৎ। কিন্তু তা না করে স্থানীয়দের সাথে তাল মিলিয়ে এখন দুই মেম্বারেও সরকারী খালে বাঁধ দিয়া মাছের ঘের করার জন্য ভেকু (স্কাভেটর) দিয়ে মাটি কাটছে। ফলে খালের বুকে বাঁধ দেয়ায় স্থানীয়
লোকজনসহ কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত-১ আসনের নব নির্বাচিত মহিলা সদস্য অভিযুক্ত রিনা বেগম বলেন, ‘বিগত প্রায় পনের বছর আগে এই খালটায় পানি চলাচল করতো। কিন্তু এখন এই খালটা মইরা (ভরাট) যাওয়ার পরে এখন আর পানি আসে না। পানির অভাবে প্রতিটা মানুষ ফসল হারাইতে (রক্ষা করতে) পারতেছে না। ফসল ভালো হয় না। ফসল পুইড়া যায়। পানির অভাবে আমি এই মাথা দিয়া খনন করছি জনগনের কথায়। পানি রাখার জন্য। যদি এই খালটা কাটার ই-আয় (প্রকল্প) তাহলে আমি একমত। আমি চাই খালটা কাটা (খনন) হোক। খালটা খনন হইলে আমরা বাঁিচ, জনগণ বাঁেচ। এবং ফসল ভালো হয়। আমাগো পানির ও সুবিধা হয়।’ এখন আপনি নিজেই খালে বাঁধ দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, ‘এই খাল খনন

করলে তখন আমি বাঁধ ছেড়ে দিমু।’ তাছাড়া স্থানীয় ইউনুস শিউলি, বসির প্যাদা, অসিম হাওলাদার এবং মিজানুর হাওলাদারের এরকম আরও চারটা বাঁধ আছে বলেও জানান এই মহিলা ইউপি সদস্য। ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে ওই ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য মজিবুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘আমি এর সাথে জড়িত না। এলাকার লোকজন বলছে তাই নাকি মহিলা মেম্বর পানি রাখার জন্য খাল খনন করছেন।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, সরকারী খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ বা ঘের করার কোন সুযোগই নেই। আর জনপ্রতিনিধিরা এটা করতে পারে না। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সাব্বির/বার্তাবাজার/এম.এম

Leave a Reply

Your email address will not be published.