লামায় ট্রিপল মার্ডারের এক বছর; তদন্তের ফল শূন্য!

বান্দরবানের লামা পৌরসভার চাম্পাতলী গ্রামে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের এক বছর পার হলেও খুনিদের চিহ্নিত করতে পারেনি মামলার তদন্তকারী সংস্থা। খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তবে হত্যাকারীকে চিহ্নিত করতে প্রাণান্তকর চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ঘটনার পর-পরই সন্দেহজনক মানুষগুলোকে নেয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তাতেও কোন ক্লু বের করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় জনসাধারণ, প্রতিবেশীদের মতামত সবকিছুই পর্যালোচনা সহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা লোকদের মোবাইল ফোনে পাওয়া কল লিস্টও যাচাই করা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও কোন কাজ হয়নি। তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা এতেও হতাশ নয়। তাদের মনোবল এখনো খুব শক্ত।

এদিকে নির্মম হত্যাকান্ড থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া দ্বিতীয় কন্যা আফরিনের প্রতিটি দিন কাটে নৃশংসভাবে প্রাণ হারানো মা ও দুই বোনের কথা ভেবে। এখনও নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তান হারা নূর মোহাম্মদের আশায় বুক বাঁধে হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায়। কিন্তু বিচার তো বহুদূর, খুনিকেও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। আদৌ কবে চিহ্নিত করা হবে জানে না কেউ। এছাড়া তদন্তের অগ্রগতিও অন্ধকারাচ্ছন্ন।

এই নিয়ে সচেতন মহল ও লোকমুখে গুঞ্জন, কোন করণে প্রকৃত খুনীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে দেশের অপরাধী-খুনীরা আরো উৎসাহিত হয়ে বলবে, একত্রে থ্রিপল মার্ডার করেও রাষ্ট্র আমাদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি। এরকম বলে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে উল্লাস করবে।

তারা আরো বলেন, আবার প্রকৃত খুনীরা আইনের আওতায় আসলে, তখন অপরাধীরা বলবে-সবকিছু অতি গোপনীয়তার সাথে সুকৌশলে আন্ডারগ্রাউন্ডে করেও আইনের চোখকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে করে শুধু লামা নয়, উন্নত ইন্টারনেট যোগাযোগের কারণে পুরো দেশে এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২১ মে ‘২১) সন্ধ্যায় লামা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের চম্পাতলী এলাকার কুয়েত প্রবাসী নুর মোহাম্মদের ঘর থেকে মাসহ দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মিজানুর/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.