রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটে সুযোগ নিচ্ছে ইসরায়েল, শঙ্কায় ফিলিস্তিনিরা!

বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই যখন ব্যস্ত রাশিয়ার আক্রমণে কোণঠাসা দুর্বল ইউক্রেনের পক্ষ নিতে। ঠিক তখনই এই যুদ্ধের ফায়দা নিয়ে ফিলিস্তিনকে কোণঠাসা করতে ব্যস্ত দখলদার ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল। এরই মধ্যে ফিলিস্তিনের দখলকৃত জায়গায় দশ হাজার নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে দেশটি।

রুশ আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে যখন ইউক্রেনের প্রতিবেশি পোল্যান্ড-রোমানিয়া খুলে দিয়েছে তাদের সীমান্ত। তখন ১২০০ মাইল অতিক্রম করে ইসরায়েলে পাড়ি জমানো বা আশ্রয় দেয়াকে মানবিক দিক বিবেচনা নয় বরং দখলদারিত্ব আর জনসংখ্যায় আধিপত্য বাড়ানোই কারণ হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে ১০০ জনের একটি দল পৌঁছেও গেছে ইসরায়েলে।

বিশ্লেষকরা বলছে, ফিলিস্তিনিদের উপর আধিপত্য বিস্তারেই এ বন্দোবস্ত করছে ইসারায়েল। মানবিক দিক বিবেচনা নয় বরং দখলদারিত্ব আর জনসংখ্যায় আধিপত্য বাড়াতে চায় তেলআবিব। সেই লক্ষেই তারা নতুন বসতি নির্মাণের ছক কষেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতেই ইউক্রেনীয় ইহুদিদের আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেলআবিব। দেশটিতে দ্রুত প্রবেশ নিশ্চিতে দাপ্তরিক প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। অভিবাসন প্রত্যাশী ইহুদিদের জন্য পোল্যান্ড-রোমানিয়া-মলদোভা-হাঙ্গেরি এই চার দেশে খোলা হয়েছে আবেদনের কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ইসরাইলের ইতিহাসই হলো ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে অবৈধ বসতি নির্মাণের। ১৯১৮ সালে ব্রিটিশরা দখলে নেয়ার আগে ফিলিস্তিনে ইহুদি জনগোষ্ঠী ছিলো মাত্র ৩ শতাংশ। যা চার বছরের মধ্যে তিনগুণ বেড়ে যায়। আর পশ্চিমাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৩৫ সালের মধ্যেই ইহুদি সংখ্যা পৌঁছে যায় ২৭ শতাংশে।

বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইহুদীদের নিয়ে ১৯৪৮ সালে গায়ের জোরে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইসরাইল রাষ্ট্রকে। সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করা হয় বসতি থেকে। ইহুদিদের ঢলের সাথে বাড়তে থাকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনের সংখ্যা। ৭২ বছর ধরে জর্ডান, সিরিয়া, মিশর, লেবানন ও ফিলিস্তিনের ৫৮ টি শিবিরে মানবেতর দিন কাটছে প্রায় ৬০ লাখ ফিলিস্তিনির।

বার্তাবাজর/ না. সা.

Leave a Reply

Your email address will not be published.