সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২

দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির প্রতিবাদ, পুলিশী হয়রানী বন্ধসহ ৯ দফা দাবিতে রংপুর মহানগরীতে ব্যটারি চালিত অটো, রিকশা ও ভ্যান শ্রমিকদের ধর্মঘটে ভোগান্তি নেমে এসেছে নগরবাসীর।

সোমবার (২১ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘট টানা ছয় ঘন্টা চলে শেষ হয় বেলা ১২ টায়। এতে বিপাকে পড়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাসহ সাধারণ মানুষজন। ফলে নগরীতে বিকল্প বাস সার্ভিস চলতে দেখা যায়।

শ্রমিকদের দাবীগুলো হলো- নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রিকশা, ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যানের ভাড়া বৃদ্ধি করে নগরের বিশেষ বিশেষ জায়গায় তালিকা টাঙানো, শ্রমিকদের ওপর অন্যায়ভাবে পুলিশের চাপিয়ে দেওয়া জরিমানা আদায় বন্ধ, ব্যাটারিচালিত রিকশার দুই হাজার নতুন লাইসেন্স প্রদান, নগরের শাপলা চত্বর থেকে জিলা স্কুল মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কে রঙ দিয়ে চিহ্নিত করে অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে পৃথক লেন, রিকশাভ্যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণা করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার এবং ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা।

অটোরিকশার এ ধর্মঘটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান অনার্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে অন্যান্য স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীদের। সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন তারা।

এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তাদের মাঝে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার তমাল জানান, শহরে থেকে তাকে ক্যাম্পাসে যেতে হয়। ধর্মঘটে অটো না চলায় বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে তাকে যেতে হচ্ছে।

রংপুর সরকারী কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসমিন জানান, পরিক্ষা দিতে বোর হয়ে পথে দু’ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে পড়ে ভ্যানে করে পরিক্ষা কেন্দ্রে আসতে দেখা যায় তাকে।

নগরীর সুপারমার্কেটের মোবাইল ফোন দোকানদার সামিউল আলম জানান, বাড়ি থেকে দোকানে যাওয়ার জন্য বের হয়ে পথে গাড়ি না পেয়ে পায়ে হেটে দোকানে পৌঁছেন।

ধর্মঘট বিষয়ে জাতীয় শ্রমিক পার্টির নেতা তোফা জানান, পুলিশের হয়রানি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদসহ আট দফা দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দাবি আমলে নেয়নি। অনেকের কষ্ট হলেও করার কিছু নাই। ধর্মঘটে সবাই সাড়া দিয়েছে। আমাদের দাবি না মানলে আমরা আরো কঠোর আন্দোলনের ডাক দিবো।

এদিকে চলমান ধর্মঘটে মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। অনেকটা অটোর ভাড়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাসগুলো শহরের ভিতরে যাত্রী পরিবহন করছে। শহরের বিভিন্ন স্টপেজে নির্দিষ্ট সময় পরপর যাত্রী নিয়ে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলছে বাসগুলো।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, সিটি করপোরেশন থেকে ৮ হাজার ২৪০টি ব্যাটারিচালিত চার্জার রিকশা ও অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। অথচ রংপুরে অনেক বেশি অটোরিকশা ও চার্জার রিকশা চলাচল করছে। ধর্মঘটের ৮ দফার অনেক বিষয় আমাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

ধর্মঘট নিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মেনহাজুল আলম জানান, অটোশ্রমিকদের দাবিগুলো অধিকাংশই আমাদের সংশ্লিষ্ট না। তবে একটি দাবি আমাদের সংশ্লিষ্ট। পুলিশ পেশাদারির বাহিরে কাউকে হয়রানি করে না। রংপুরে অবৈধভাবে অনেক অটো চলে, অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা চলমান থাকবে।

রকি/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.