যে কারণে ইউক্রেনে হামলা

ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। এই হামলায় শুধু রাশিয়া বা ইউক্রেন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াই বলেই ধারণা করছেন অনেকে। ইউক্রেনকে নিয়ে রাশিয়া ও পশ্চিমের শক্তিদের মাঝে চলমান অচলাবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে নিরাপত্তা জোট ন্যাটো।

রাশিয়া চায়, ইউক্রেন ন্যাটো ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য না হোক। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্রাদিমির পুতিনের দাবি, ইউক্রেন পশ্চিমাদের হাতের পুতুল। ইউক্রেনকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র হিসেবেও মানতে রাজি নয় পুতিন। তবে এই সংকট শুরু অনেক আগে থেকেই।

এই ইতিহাসের সূত্রপাত হয় ২০১৪ সালে। তবে এই সংকটের মূলে যেতে ফিরে তাকাতে হবে সোভিয়েত আমলে। তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল ইউক্রেন।

ইউক্রেনে দুটি রাজনৈতিক মতবাদ আছে। তার একটি ধারা পশ্চিম ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চায়। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে আগ্রহী অনেকে। অপর ধারাটি রাশিয়াপন্থী। তারা রাশিয়ার বলয়ে থাকতে চায়।

ইউক্রেনের জনসংখ্যার বেশ কিছু মানুষ রুশভাষী। তারা জাতিগত ভাবেও রুশ। রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক একটা ঘনিষ্ঠতা আছে।

ইয়ানুকোভিচ ইইউর সঙ্গে বড় রকমের বাণিজ্য চুক্তি করতে চেয়েছিলেন। তখন পুতিন চাপ বাড়ান। চাপে পড়ে ইয়ানুকোভিচ ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসেন। ফলে ইউক্রেনে তাঁর বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হয়।

ইয়ানুকোভিচের পর যাঁরা ইউক্রেনের ক্ষমতায় আসেন, তাঁরা ইইউপন্থী বলে পরিচিত। তাঁদের নানা পদক্ষেপে পুতিন ক্ষুব্ধ হন।

ইয়ানুকোভিচের পতন হবার পর পূর্ব ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নেয় রাশিয়া।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ১৯৪৯ সালে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময় এই জোট গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের (ইউএসএসআর) আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটা বড় রকমের প্রতিরোধ গড়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মিত্ররা বৃহত্তর রাজনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে ন্যাটোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।

ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে ন্যাটোর একটা সদস্য হওয়ার আগ্রহের কথা জানান। এমনকি, এই আগ্রহের কথা তারা সংবিধানেও উল্লেখ করে।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাবার সময় মিখাইল গর্বাচেভের দুর্বল সরকারের কারণেই ইউক্রেন স্বাধীন হবার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল।

ইউক্রেনের এই বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতার ব্যাপারে সর্বদাই রুশ শাসকরা সচেতন ছিল। একে ঠেকানোর চেষ্টায় জারদের শাসনের সময় ইউক্রেনের রুশী করণের জন্য নানারকম আইনও হয়েছিল।

সোভিয়েত শাসনের সময় সেখানকার স্কুলে ইউক্রেনীয় ভাষাও শেখানো বন্ধ করে দেয়।

অবশেষে সাত দশকেরও বেশি সময় পর সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাবার মধ্যে দিয়ে ১৯৯১ সালে জন্ম হয় স্বাধীন ইউক্রেন রাষ্ট্রের।

ইউক্রেনের “অসহিষ্ণু” আচরণের হাত থেকে ডনবাস এলাকার রুশ-ভাষী মানুষদের রক্ষার কথা বলে মস্কো ঐখানকার বিদ্রোহীদের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে বলে ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করতে থাকে – কিন্তু রাশিয়া তা অস্বীকার করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে মস্কো বলতে পারবে যে তারা সেখানে সেনা পাঠানোর “আইনী বৈধতা পেয়েছে।”

 

বার্তাবাজার/আর এম সা

Leave a Reply

Your email address will not be published.