যশোরে বন‍্যা কবলিত ভবদহ এলাকার রাস্তা ঘাটের বেহালদশা,জনজীবনে চরম ভোগান্তি।

এস আর নিরব যশোরঃ
যশোরে বন্যা কবলিত অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা নিয়ে ভবদহ এলাকা গঠিত। কয়েক দশক ধরে ভবদহ এলাকার ঘরবাড়ি,হাটবাজার,রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ ফসলের মাঠ জলাবদ্ধ থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম হতাশা ও দূর্বিসহ দুঃখ যন্ত্রণা। ভবদহ এলাকার অসহায় ও হতদরিদ্র জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির দীর্ঘদিনের দাবি – অনাবাদি ফসলের মাঠ আবাদি করার লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণের কাঙ্খিত নদনদী, খাল বিল খনন ও পুনরোদ্ধার, টিআরএম বাস্তবায়ন, স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ জনগণকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আমডাঙ্গা খাল প্রশস্তকরণ,রাস্তাঘাট সংস্কার ,স্কুলকলেজের বিল্ডিংসমূহ পূণঃনির্মানসহ সকল দাবি দাওয়া সোনার হরিণের ন্যায় দেখা দিয়েছে।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া- মশিয়াহাটীগামী ৮ কিলোমিটার পাকা রাস্তা যশোরের ভবদহ এলাকার এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায় ২/৩ মাস যাবত রাস্তার বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে থাকার ফলে রাস্তার উপর বড়বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে । উক্ত রাস্তার সরখোলা থেকে মশিয়াহাটীর পুল পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তার দুইপাশে রয়েছে একাধিক ব্যক্তি মালিকানাধীন মাছের ঘের।ঐ সকল মাছের ঘের মালিকগণ ঘেরের পাড় হিসাবে ব্যবহার করছে ৬ ফুট প্রশস্ত সরকারি রাস্তা। ফলে রাস্তার কয়েক জায়গা বিশেষ করে হাটগাছার আশ্রমের আশেপাশে ৩ জায়গায়, ডুমুরতলার ফাঁকা জায়গায় এবং সুজাতপুরের সরকার বাড়ির নিকটে প্রশস্ত রাস্তা ভেঙে ছোট হয়ে ৩/৪ ফুট হয়ে গেছে। এভাবেই যদি রাস্তাকে ঘেরের পাড় হিসাবে ব্যবহার করা হয় তাহলে হয়তো আগামী বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এছাড়া রাস্তার পাশে মাছের খাবার তৈরি করার ফলে খাবারের গন্ধে স্থানীয় জনগণের বাড়িতে টিকে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ছে এবং গন্ধে সড়কে চলাচল করতে জনগণের পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত এ সকল সড়কে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। তারপরও এই সড়কে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে।

অভয়নগর উপজেলার সরখোলা নামক স্থানের রাস্তায় দেখা গেছে, কয়েক লক্ষাধিক মানুষের যাওয়া আসার এই রাস্তার আধাকিলোমিটারে এখনও প্রায় হাঁটু সমান পানি রয়েছে।

এ অঞ্চলে এখনও অসংখ্য বাড়ির উঠানে পানি থাকায় বাঁশের সাকোঁই পার হয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শীতের এই ভরা মৌসুমে অনেক সময় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা পানিতে পড়ে গিয়ে শীতে যেমন কষ্ট পাচ্ছে তেমনি শীতকালীন ও পানিবাহিত রোগেও ভুগছে। শুধু তাই নয়, বাড়িতে বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় এখন কিছু পরিবার নওয়াপাড়া মশিয়াহাটী সড়কের সুজাতপুর রাস্তার উপর বসবাস করছে।

দীর্ঘদিন যাবত ভবদহ এলাকার রাস্তাগুলোর এই বেহাল দশা সম্পর্কে স্থানীয় সরকার ও জনপদ বিভাগসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও অবগত। কিন্তু এতো বিপুল সংখ্যক লোকের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবের জন্য রাস্তাগুলো সংস্কার করে আশু সমাধানের লক্ষ্যে কোন গৃহীত পদক্ষেপের নমুনা পরিলক্ষিত হয়নি। তাই অত্র এলাকার সাধারণ মানুষ সরকারের একটু সুদৃষ্টি পড়লে এলাকার উন্নয়ন সম্ভব হলে মনে করছেন। অত্র এলাকার সাধারণ মানুষ বলছে সরকার যদি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তবে আমাদের এই দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.