October 6, 2022

এস আর নিরব যশোরঃ
যশোরের বাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে ভারতীয় পেঁয়াজ। এক টাকা, দুই টাকা নয়, এক লাফে প্রতি কেজিতে কমেছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এখন হাক-ডাক ছেড়ে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৩০ টাকা। দুই-তিন দিন আগেও প্রতিকেজি পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ৪০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ মজুতদাররা সরবরাহ কমিয়ে পেঁয়াজের চড়া দাম ধরে রেখেছিল। ভারতীয় পেঁয়াজের তোড়ে মজুতের পাহাড়ে ধস নেমেছে। তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন পাইকারি বিক্রেতারা। তাদের দাবি পেঁয়াজের মজুত ছিল না। দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে যশোর বড়বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা হাক-ডাক ছেড়ে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি করছেন ১৪ থেকে শুরু করে ৩৫ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বিক্রেতা আবুল হোসেন দৈনিক কল্যাণকে বলেন, বাজারে ৩ ধরনের পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। দেশে উৎপাদিত ভাতি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকা দরে। এর বাইরে মেহেরপুরের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ টাকা কেজি।

আলী হোসেন নামে এক খুচরা বিক্রেতারা বলেন, আমি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ২৫ টাকা দরে। জয়দেব নামে এক বিক্রেতারা বলেন, আমি দেশি ও ভাল মানের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি করছি ৩০ টাকা দরে।
খুচরা বিক্রেতা উদয় সাহা দৈনিক কল্যাণ জানান, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভাতি পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজও বাজারে এসেছে। মেহেরপুর থেকে আসছে ভিন্ন জাতের পেঁয়াজ। সবমিলিয়ে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ অনেকাংশে বেড়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমেছে-যোগ করেন এই খুচরা বিক্রেতা।

হাটচান্নির বিসমিল্লাহ ভান্ডার, সুভাস ভান্ডার ও জাহাঙ্গীর ভান্ডারসহ বেশ কয়েকটি আড়তে পাইকারী দরে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানান, তাদের পেঁয়াজের মজুত ছিল না। বাজারে চাহিদা বুঝে তারা আমদানি করেন। এখন সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে দামও কমেছে।

খুচরা বাজারে কথা হয় সাইফুল ইসলাম ও তাসলিমা নামে দুই ক্রেতার সাথে। তারা বলেন, রমজানের আগে পেঁয়াজের দাম কমেছে দেখে স্বস্তি বোধ করছি। তারা বাজার দর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.