October 1, 2022

বরগুনা পৌর শহরের গ্রীন রোডে মোবাইলের সেলফি ক্যামেরা নিজের দিকে তাক করা অবস্থায় এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।শুক্রবার (১১ মার্চ) সকালে বরগুনা পৌর শহরের গ্রিন রোড এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে কাকে ভিডিও কলে রেখেছিলেন সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত শিক্ষার্থী জেরিন ইসলাম (১৮)। জেরিন সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামের জলিল মৃধার মেয়ে। তিনি বরগুনা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ বলছে রহস্য উদঘাটনে তারা তদন্ত করছেন। কে ছিলো ভিডিও কলের অপর প্রান্তে? কি কথা হয়েছে দু’জনের মধ্য? কেন আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলো? এসকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, কলেজ শিক্ষার্থী জেরিন ইসলামের বাবা জলিল মৃধা দীর্ঘদিন ধরে দুবাই প্রবাসী। তাই মাকে নিয়ে গ্রিন রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকতো সে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মা গ্রামে এক আত্মীয়ের অসুস্থতা দেখতে যায়। ঘরে জেরিন ইসলাম একাই ছিলেন। সকালে এক প্রতিবেশী বাথরুমে যাওয়ার সময় তাকে ডাক দিয়ে কোনো সাড়া না পেয়া বাথরুম থেকে ফিরে জানালার ফাঁক দিয়ে তার মৃতদেহ ঝুলতে দেখে অন্য প্রতিবেশীদের ডাক দেয়। এরপর পুলিশ এসে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় জেরিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

এ সময় ঘরে থাকা ফ্রিজের ওপরে জেরিনের চেহারার দিক ওপেন করা অবস্থায় একটি স্মার্টফোন পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা-কাউকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছে ঐ কলেজছাত্রী। স্মার্টফোনটি জব্দ করেছে পুলিশ। তবে কাউকে ভিডিও কলে রাখা হয়েছিলো কিনা নাকি তিনি নিজেই তার আত্মহত্যার ভিডিও করছিলেন সে বিষয়টি রহস্য হয়ে আছে। বাসার মালিকের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেরিন তার মা ও ভাইকে নিয়ে আমাদের বাসায় ভাড়া থাকত। তার বাবা অনেক দিন ধরেই বিদেশে রয়েছে। ২/৩ মাস আগে তার ভাই বিদেশ চলে চায়। এরপর থেকে মা ও মেয়েই থাকত। সকালে আমাদের আরেক ভাড়াটিয়া জেরিনের প্রতিবেশী বাথরুমে যাওয়ার সময় জেরিনকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলতে দেখে আমাকে ডাক দেয়। পরে আমি পুলিশকে জানাই। বৃহস্পতিবার সারা রাত জেরিন বাসায় একা ছিল।

নির্কটবর্তী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি তদন্ত) মাইনুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের চেহারা বরাবর একটি স্মার্টফোনে সেলফি ক্যামেরা তাক করানো ছিল। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি কাউকে ভিডিও কলে রেখে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। ফোনটি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। বরগুনার পুলিশ সুপার মুহম্মাদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, খবর পেয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বার্তাবাজার/এম.এম

Leave a Reply

Your email address will not be published.