মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি দখল, ইউএনও’র কাছে মামলা দায়ের

ভোলার চরফ্যাসনের জাহানপুর ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আবদুল গফুর কাঞ্চন পঞ্চায়েত, মুজাফফর পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ২০১৫ সনে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াব উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার খরিদা ও বন্দোবস্ত নেয়া ২ একর ৩২ শতাংশ জমি জবর দখল করে মাছের ঘের ও মুরগীর খামার তৈরি করে ভোগদখল করছেন। মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মোঃ রাসেল জমি উদ্ধারে স্থানীয় গন্যমান্যদের ধারে ধারে ঘুরে ব্যর্থ হয়ে ২০২১ সনে উপজেলা নির্বাহী আদালতে জমি উদ্ধার চেয়ে ১১ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা দায়েরের পর পরই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের তান্ডবে দিশেহারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি। নির্বাহী আদালতে মামলা দায়ের করায় বৃহস্পতিবার বিকালে হামলা শিকার হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা।আসামীদের অব্যহত হুমকি ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার মুক্তিযোদ্ধার ছেলে রাসেল অভিযোগ করেন, জাহানপুর মৌজায় দিয়ারা ১৬৭৭ নং খতিয়ানে ১ একর ৫০ শতাংশ ও ওই মৌজায় ১৫৭৬ নং খতিয়ানে খরিদ সুত্রে ৮২ শতাংশ জমির মালিক হয়ে ভোগদখলে বিদ্যমান ছিলেন তার বাবা। ১৫ সনে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওয়াব উদ্দিনের মৃত্যুর পর তিনি এবং তার ৩ ভাই সায়োয়ার উদ্দিন সবুজ, আমিনুল ইসলাম মিজান, মাসুম, মা শাহানুর বেগম, দুই বোন হাসনা বেগম ও নাসরিন বেগম ওয়ারিশ হয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা বাবা ওয়াব উদ্দিন মৃত্যুর পর পরই ওই জমি স্থানীয় আবদুল গফুর কাঞ্চন পঞ্চায়েত, মুজাফফর পঞ্চায়েত জবর দখল করে নিয়ে নেয়। ভূমিদস্যুদের কবল থেকে জমি উদ্ধারে স্থানীয় গন্যমান্যদের কাছে ধর্ণা ধরে কোন প্রতিকার না পেয়ে তিনি ২১ সনে স্থানীয় আবদুল গফুর কাঞ্চন পঞ্চায়েত, মুজাফফর পঞ্চায়েত ও তাদের ছেলেদেরকেসহ ১১ জনকে আসামী করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদালতে মামলা দায়ের করেন। নির্বাহী আদালতে মামলা দায়েরের করায় ক্ষিপ্ত হন ভূমিদস্যুরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের দখলীয় অপর জমিতে মরিচ আবাদ করতে গেলে ওই চক্র তাদেরকে বাধা দেন। এসময় তাদের ওয়ারিশ দিল মোহাম্মদের সাথে তর্ক বাধে। তর্কের জের ধরে আবদুল গফুর কাঞ্চন পঞ্চায়েত,মুজাফ্ধসঢ়;ফর পঞ্চায়েত নেতৃত্বে নাগর পঞ্চায়েত, সিরাজ পঞ্চায়েত,হাসনাইন,সুফিয়ান, তার ওপর অর্তকিত হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এসময় ফুফা দিলমোহাম্মদের স্ত্রী মাসুমা বেগম ও স্বজন শিশু রিয়াদ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে।

খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামপুলিশও জয়নাল আবেদিন ও স্বজনরা ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। মারধর করেই ক্ষ্যন্ত হননি ওই ভূমিদস্যু চক্র। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াব উদ্দিনের ভাই তার চাচা নজরুল ইসলামকে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে পথ আটকে তাকে মারধরের চেষ্টা ও হত্যার হুমকি দেন। এবং হামলা শিকার পরিবারটিকে কোন চিকিৎসা ছাড়াই রাতভর অবরুদ্ধ করে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন। আসামীদের অব্যহত হুমকি ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা।

অভিযুক্ত আবদুল গফুর কাঞ্চন পঞ্চায়েত জানান,ওই জমির আমি এবং আমার ভাই ওয়ারিশ। ওই জমি নিয়ে তাদের সাথে আমারদের বিরোধ চলমান রয়েছে।

শশীভূষণ থানার ওসি মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, এঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরিফ/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.