October 1, 2022

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে ৫১তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইকমিশনার গোলাম সারওয়ার জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

এরপর দূতাবাসের হলরোমে দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে হাই কমিশনারের সভাপতিত্বে এবং দূতালয় প্রধান, কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) রুহুল অমিনের পরিচালনায় পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাতের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা শুরু হয়।

সভায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও ৭১-এ বাংলাদেশের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন শেষে হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার তার বক্তব্যে বলেন, ২৬শে মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস।
১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানের শোষণ ও দুঃশাসনের নাগপাশ ছিন্ন করে স্বাধীন হয় প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। আজ সেই ইতিহাসের অম্লান দিন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ২৫ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতের প্রথম প্রহরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর শুরু হয় সর্বাত্মক মুক্তিযুদ্ধ। ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একসাগর রক্তের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় মহান বিজয়। প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন–সার্বভৌম বাংলাদেশ, স্বাধীনতার স্বাদ পায় বাংলার মানুষ। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতাকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা ও সকল প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। আর আমাদের সামনে দিনবদলের হাতছানি নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার। দেশের মানুষ আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত।

তিনি বলেন, অর্থনীতির আকারে বর্তমান বিশ্বে ৪০তম বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্বব্যাংক থেকে স্বীকৃতি মিলেছে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার। এসব অর্জন বাংলাদেশের সক্ষমতার পাশাপাশি মর্যাদাও বাড়িয়েছে।

এদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি প্রবাসেও পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা দিবস।

হাইকমিশনার বলেন, বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক অনন্য উচ্ছতায় পৌঁছেছে। এ সম্পর্ককে আরও উন্নত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সবাইকে দেশ গঠনে এক সঙ্গে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, বিদেশে যে কোনো দেশের মিশন পরিচালনা করে নিজ দেশের নাগরিকদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হয়। এর মধ্যে করোনাভাইরাস এসে নানা বিধিনিষেধের ফলে আশানুরূপ কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা সেবা নিশ্চিত করার গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুনমাত্রা যোগ করেছি, যা বহুল কাঙিক্ষত ছিল। বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে যৌক্তিক করনীয় ও তুলনামূলক ভালো সিদ্ধান্ত নিতে ও বাস্তবায়ন করতে সবসময় সমর্থন দিয়েছে।

তিনি বলেন, রেমিটেন্স পাঠানোর টাকায় প্রণোদনা দিয়েছে ও সেটা বাড়ানো হয়েছে। আলাদা পাসপোর্ট সার্ভিস সেন্টার হয়েছে। পোস্ট মালয়েশিয়ার মাধ্যমে দূর-দূরান্তে পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পোস্ট অফিসের মাধ্যমে গত এক বছরে ৩ লাখ নতুন পাসপোর্ট দিয়েছি। পাশাপশি বৈধকরনের সময় বিবেচনায় নিয়ে আমপাং থেকে সরাসরি পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রেই কর্মীদের কথা বিবেচনা করে পাসপোর্ট সার্ভিস নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করছি।

হাইকমিশনার বলেন, এরইমধ্যে কমিউনিটির ব্যক্তিরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকেও পরামর্শ পাচ্ছি। পাসপোর্ট সেবাপ্রত্যাশীদের মতামত সংগ্রহ করেছি। তাতে দেখা গেছে, পাসপোর্ট করতে কুয়ালালামপুরে না আসায় কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ, সময় সাশ্রয় হচ্ছে ও ছুটিও নিতে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, পাসপোর্ট কেন্দ্রকে ঘীরে প্রতারণা ও হয়রানি হচ্ছে না। হাইকমিশনের সংশ্লিষ্টরা প্রবাসীদের সেবা দিতে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। হাইকমিশনের সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কেউ যেন প্রবাসী কর্মীকে হয়রানি না করে সেদিকে লক্ষ্য আছে। প্রবাসীদের অনুরোধ করবো যেন নিজেদের দায়িত্ব থেকে হাইকমিশনকে সহযোগিতা করেন। একটি সঠিক পরামর্শ অনেক বেশি উপকারী।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ডেপুটি হাইকমিশনার খোরশেদ এ খাস্তগীর, মিনিষ্টার শ্রম নাজমুস সাদাত সেলিম, কাউন্সিলর কন্স্যুলার জি এম রাসেল রানাসহ দূতাবাসের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ দিকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া সরকারের দেয়া বিধি-নিষেধ মেনে অনুষ্ঠানে দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি প্রবাসী কমিউনিটি ও মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দূতাবাসের ফেসবুক পেজে লাইভ প্রচার করে প্রবাসীদের অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়।

আশরাফুল/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.