‘মাদকের রাজধানীতে পরিণত হয়েছে সৌদি আরব’

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবে ‘কেপ্টাগন’ নামক মাদকের ট্যাবলেটের পাচার ও এর ব্যবহারের বিষয়ে বেশ কিছু খবর গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। কোনো কোনো সূত্র বলছে, সৌদি আরব কার্যত মাদকের গুদামে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসি এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে সৌদি আরবকে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে মাদকের রাজধানী হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আরব এ দেশটি মাদক বিক্রির লাভজনক বাজারে পরিণত হয়েছে এবং সৌদি সমাজে মাদকের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কোনো সংবাদ মাধ্যম মাদকের ব্যবসা ও এর বিস্তারে সৌদি যুবরাজদের হাত থাকার কথা জানিয়েছে। কিন্তু সৌদি কর্মকর্তারা মাদক ব্যবসায় যুবরাজদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার বিরোধী।

লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী ২০১৫ সালের অক্টোবরে সৌদি আরবে পাচারকালে দুই টন ‘কেপ্টাগন’ নামক মাদকের ট্যাবলেট আটক করেছিল। এর সঙ্গে জড়িত আবদেল মহসেন বিন ওয়ালিদ বিন আবদুল আজিজ নামে এক সৌদি যুবরাজ এবং তার চার সহযোগীকে আটক করেছিল লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী। এ সম্পর্কে চলতি বছর এপ্রিলে রিয়াদ ঘোষণা করেছে, লেবানন থেকে মাদকের ট্যাবলেট সৌদি আরবে পাচারের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছিল। ডালিমের একটি চালানের মধ্যে কারসাজি করে এসব মাদক সৌদি আরবে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। এর জের ধরে সে সময় সৌদি সরকার লেবানন থেকে সৌদিগামী কিংবা সৌদি আরবের ওপর দিয়ে অন্যান্য দেশে সব্জি ও ফলমূল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

এ ছাড়া চলতি বছর জুনেও লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ‘কেপ্টাগন’ নামক মাদকের আড়াই লাখ ট্যাবলেট আবারো সৌদি আরবে নেয়ার চেষ্টাকালে ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক ছোট পানির পাম্পে এসব মাদক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গত জুলাইয়ে ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনোমিষ্ট এ কথা ফাঁস করে দিয়েছে যে বেশ কয়েকজন সৌদি যুবরাজ সিরিয়া থেকে মাদক সংগ্রহ করে তা সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে বিক্রি করছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মাদক চোরাকারবার ও ব্যবসার কাজে সৌদি যুবরাজদের জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে তাদের হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজে তারা ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার করছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ফরেন পলিসি লিখেছে, ‘গত মাসে সৌদি আরবে মাদক পাচারের তিনটি বড় চালান ধরা পড়েছে। এ থেকে বোঝা যায় সৌদি সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার লাভ করেছে এবং বর্তমানে মাদকের ব্যবহার সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই মাদক ব্যবহারের ফলে মানুষের আচরণে অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দেয় এবং তারা দীর্ঘ সময় ধরে জেগে থাকতে পারে’।

যাইহোক, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবের সমাজ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন এসেছে। নাইট ক্লাবে নাচ গান চালু করা, জুয়ার আড্ডা বসানো প্রভৃতির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি মাদকের প্রতি যুবক শ্রেণীর আসক্তি এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে বলা যায় সৌদি সমাজ ইসলামি মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে গিয়ে পাশ্চাত্যের বিজাতীয় সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং তাদের জীবন ব্যবস্থায় পাশ্চাত্যের প্রভাব লক্ষণীয়। পার্সটুডে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.