মরদেহের সাথে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনায় মর্গ বন্ধের সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহের সাথে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা প্রকাশ ও অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর সেই মর্গ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

বুধবার (২ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ শামীম আহসান।

তিনি বলেন, একসময় মর্গ না থাকায় আমাদের এটির প্রয়োজন ছিল। এখন কলেজের ফরেনসিক বিভাগের এখানে মর্গ আছে। যেসব মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রয়োজন হবে, আমরা সেগুলো পুলিশের মাধ্যমে সেখানে পাঠিয়ে দেবো। এটিকে আমরা সিকিউরিটি সেল বা স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করবো। এটি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নগরের চকবাজার থানা এলাকা থেকে আনুমানিক ৩২ বয়সী এক নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক মর্গে পাঠায় পুলিশ। একই বছরের ২৫ এপ্রিল ১২ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর পূর্বে ধর্ষণ হয়েছে কিনা জানার জন্য মর্গের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক মরদেহ দুটি থেকে বীর্যের নমুনা সিআইডির ল্যাবে পাঠান। সেখানে দুই মরদেহে একই ব্যক্তির বীর্য পাওয়া যায়।

এরপর চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তবে তদন্তকালে দুই মরদেহের ক্ষেত্রে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তারপরও ঘটনার তদন্তে লেগে থাকে সিআইডি। একপর্যায়ে তদন্তে পাওয়া যায় দুইটি মরদেহ ময়নাতদন্তের পূর্বে দীর্ঘক্ষণ চমেকের মর্গে ছিল।

ওইসময় ওই মর্গের পাহারাদার ছিলেন সেলিম। সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে সেলিম ওই দুই মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। এরপর সোমবার চমেক হাসপাতাল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন তার বিরুদ্ধে নগরের পাঁচলাইশ থানায় সিআইডি চট্টগ্রাম জেলা ও মেট্রো ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ কমল ভৌমিক বাদী হয়ে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন।

এর ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে এবং সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে সেলিমকে মঙ্গলবার (১ মার্চ) আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হালিমের আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক নারী ও এক কন্যাশিশুর মরদেহ ধর্ষণের অভিযোগে চমেক হাসপাতাল মর্গের পাহারাদার মো. সেলিমকে (৪৮) সিআইডি বিভাগ। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মৃত নোয়াব আলীর ছেলে। চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট খাজা রোড এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন সেলিম। তিনি অস্থায়ী ভিত্তিতে হাসপাতাল মর্গের পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন।

হুমায়ুন/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.