October 3, 2022

ভোলার চরফ্যাসনে পল্লী চিকিৎসকের অপ-চিকিৎসায় ফেরদাউস বেগম (২৫) নামের এক প্রসূতি ও তার গর্ভের নবজাতকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৮ মার্চ) দিবাগত রাতে চরফ্যাসন হাসপাতাল থেকে ভোলা নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহত গৃহবধু হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের রুবেলের স্ত্রী।

গৃহবধুর ময়নাতদন্তের ভয়ে হত্যার প্রতিবাদ বা বিচার চাইতে নারাজ তার স্বামী ও বাবার পরিবার।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত পল্লী চিকিসৎক মামুন প্রভাবশালী হওয়ায় রাতের আধারে রফদায় ময়না তদন্ত ছাড়াই নিহতের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

গৃহবধুর প্রতিবেশীরা জানান, নিহত ফেরদাউস বেগমের সাথে ওই গ্রামের রুবেলের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে প্রথম সন্তানের জম্ম হয়। ওই গৃহবধু ফের সন্তান সম্ভবা হলে চেয়াম্যান বাজারের স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মামুনের চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই গৃহবধু।

জানা যায়, শুক্রবার গৃহবধুর হালকা প্রসব বেদনা শুরু হলে পল্লী চিকিৎসক মামুনের শরণাপন্ন হোন গৃহবধুর স্বামীর পরিবার। কিন্তু গ্রাম্য চিকিৎসক মামুন তাকে চরফ্যাসন হাসপাতালে না পাঠিয়ে নরমাল ডেলেভারীর চেষ্টা করেন। রাতে গৃহবধুর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক মামুন তাকে নিয়ে চরফ্যাসনের সেবা ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে ছুটে আসেন।সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে সেবার মেডিকেল সার্ভিসেস এন্ড ডায়গনিস্টিক কতৃপক্ষ তাকে সরকারী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

গভীর রাতে চরফ্যাসন হাসাপাতলে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বরিশাল নেয়ার পথে ভোলা সদরের কাছাকাছি গেলে প্রসূতি ও তার গর্ভের নবজাতকের মৃত্যু হয়।

ময়নাতদন্তের ভয়ে ওই গৃহবধুর স্বামীর পরিবার হত্যার প্রতিবাদ বা বিচার চাইতে নারাজ। পল্লী চিকিৎসক মামুন প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগি পরিবার খুলতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, ইতিপূর্বে ওই পল্লী চিকিৎসক মামুনের ভুল চিকিৎসায় আরও অনেক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় ভূক্তভোগী পরিবার প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। তার অপ-চিকিৎসায় প্রসূতি নারী ফেরদাউস ও তার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক মামুন আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

চরফ্যাসন হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শোভন বসাক জানান, একজন পল্লী চিকিৎসক কখনও প্রসূতির চিকিৎসা বা ডেলেভারীর কাজ করতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরিফ/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.