ভিক্টিম ব্লেমিং এর প্রতিবাদে বশেমুরবিপ্রবিতে মিছিল

ভিক্টিম ব্লেমিং এর প্রতিবাদে এবং ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। এসময় আবাসিক হলের ছাত্রীরাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় তিন শতাধিক ছাত্রীরা প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫ টার সময় মেয়েদের আবাসিক হল থেকে মিছিল বের হয়। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের লাইব্রেরি চত্বর, শেখ হাসিনা চত্বর, জয় বাংলা চত্বরসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনে এসে প্রতিবাদ মিছিল শেষ হয়।

এদিকে বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ছয় আসামী ধর্ষণের দায় শিকার করেছে। গ্রেফকারকৃত ছয় আসামীর মধ্য একজন প্রকৌশলী, দুইজন স্নাতক, দুইজন মাদরাসা ও একজন স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)।

আজ দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‌্যাব জানান, গ্রেফতারকৃদের মধ্য তূর্য মোহন্ত খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৮ সালে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে, তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার জন্য বিদেশ যান। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ শেষ বর্ষে থাকাকালীন কোভিড পরিস্থিতির কারণে সে দেশে চলে আসে এবং গোপালগঞ্জে সদরে গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

মোঃ হেলাল ও নাহিদ রায়হান স্থানীয় কলেজে স্নাতক ২য় বর্ষে অধ্যয়ণরত। হেলাল একটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (DSO) হিসেবে চাকুরী করত।

রাকিব মিয়া ইমন স্থানীয় একটি মাদ্রাসা হতে দাখিল ও আলীম পাশ করেন। সে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে রিসেপশনিস্ট হিসেবে চাকুরী করত। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে মাদক ও মারামারির মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

প্রদীপ বিশ্বাস স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করে। সে গোপালগঞ্জে হোম সার্ভিসের মাধ্যমে এসি ও ফ্রিজ মেরামতের কাজ করত। অপর অভিযুক্ত পিয়াস ফকির গোপালঞ্জের একটি পাওয়ার হাউজে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে।

খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেফতারকৃতরা প্রায় ৮/১০ বছর যাবত নবীনবাগ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন, আড্ডা, জুয়াসহ বিভিন্ন ধরণের অপকর্মে লিপ্ত ছিল। এছাড়াও তারা চুরি ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধেও জড়িত ছিল। তারা বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে স্কুল/কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করত। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও রয়েছে। মূলত পাশবিক প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেই উক্ত ন্যাক্কারজনক ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তারা স্বীকার করে।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে গণধর্ষণের শিকার হয়। গণধর্ষণের শিকার ঐ শিক্ষার্থী তার বন্ধুর সাথে গোপালগঞ্জ সদরের নবীনবাগ হেলিপ্যাডের সামনে থেকে হেঁটে আসছিলেন। পথিমধ্যে এক অটো থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৭/৮ জন মিলে তাদের গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলের নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সাথে থাকা তার সহপাঠীকে মারধর করে এবং ঐ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে।

সাগর/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.