‘বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মহানুভবতা দেখিয়েছেন বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়া আশা করি সেটি মনে রাখবে। তাকে বারবার সাজার মেয়াদ স্থগিত রেখে মুক্ত থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন তারা আবারও আবেদন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তো মহানুভব।

বুধবার (১৬ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু’র মেজবান হলে চট্টগ্রাম ওয়াসার শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-২ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-২ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেই বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে উপহাস করার জন্য, হত্যাকারীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য, নিজের জন্ম তারিখ বদলে দিয়ে ১৫ আগস্ট কেক কাটেন, যেই খালেদা জিয়া ও তার স্বামী জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টের হত্যাকারীদের পুনর্বাসিত করেছেন, খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত, যেই খালেদা জিয়ার দুয়ারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়েছিলেন- দুয়ার খোলেননি, সেই খালেদা জিয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী যে মহানুভবতা দেখিয়েছেন বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়া আশা করি ভবিষ্যতে সেটি মনে রাখবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা তো জনগণের কাছে যান না। তিনি মাঝে মধ্যে ঠাকুরগাঁও যান আর টেলিভিশনে প্রোগ্রাম করেন, আর মাঝে মধ্যে লোক দেখানো কিছু প্রোগ্রাম করেন। জনগণ যে আজকে ভালো আছে, তারা তো আসলে সেটুকু জানেন না। জনগণ ভালো থাকুক সেটিও তারা চান না, জনগণ যে ভালো আছে এতে তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। এজন্য নানা ধরণের বিভ্রান্তিকর কথা বলেন তারা।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষের কষ্ট ও দুর্ভিক্ষ হয় এসি রুমে বসে তারা মানুষের দুর্ভিক্ষ ও কষ্ট বুঝেন না, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এই করোনাকালে সঙ্কটের সময়ে আওয়ামী লীগই সবসময় মানুষের পাশে থেকেছে, বিএনপি কখনো থাকেনি। বিএনপি করোনাকালে দু-একটি লোক দেখানো প্রোগ্রাম করে কয়েকটি প্যাকেট বিতরণ করেছে, টেলিভিশনে ফটোসেশন করেছে, এর বাইরে কিছু করেনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণের সঙ্গে থাকে, করোনাকালে বুঝা গেছে কোন দলের নেতাকর্মী, এমপি ও মন্ত্রীরা জনগণের পাশে ছিলেন। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে ছিলেন বিধায় এই করোনার সময়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ৮১ সদস্যের মধ্যে পাঁচজন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। দলের অনেক সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। তারা জনগণের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করেছেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে আবার হাসপাতালে গেছেন। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে আবার জনগণের কাছে গেছেন। সেই কারণেই তারা কিন্তু অসুস্থ হয়েছেন এবং অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি নিজেও দু’বার করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। আমি ঢাকা শহরে একজন ব্যস্ততম রাজনীবিদ। এরপরও প্রতি সপ্তাহে আমার নির্বাচনী এলাকায় আসি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়নের ওপর শুরু থেকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন তিনি নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। সেই মোতাবেক সমগ্র চট্টগ্রামব্যাপী অনেকগুলো মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমার নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে সুপেয় পানি চট্টগ্রাম শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরবাসীকে সুপেয় পানি দিতে পেরে রাঙ্গুনিয়াবাসী অত্যন্ত খুশি। চট্টগ্রাম শহরবাসী যাতে সুপেয় পানি পায় সেজন্য আমার নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা করেছে। এজন্য এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানাই।

বার্তাবাজার/জে আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.