বিয়ের আশ্বাসে তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে হালিমা আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রাম্য শালিসে বিচার না পেয়ে লজ্জায় ওই তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।

শুক্রবার (১১ মার্চ) নিজ বাড়িতে রাত সাড়ে দশটার দিকে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই তরুণী। হালিমা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের আলতাফ হোসেনের মেয়ে। হালিমা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর এসএসসি পাশ করেন।

প্রতারক ওমর ফারুক হালিমার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে কথাবার্তা চালিয়ে গেলে এক পর্যায় তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সুবাদে তাহারা প্রায় সময় বিভিন্ন জায়গায় দেখা স্বাক্ষাত করতো। একপর্যায়ে হালিমার প্রেমের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ফারুক তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। সে প্রায়ই রাতের বেলায় দেখা করার জন্য হালিমার বাড়িতে যেতো।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর ৫ টার দিকে হালিমার সাথে দেখা করার জন্য প্রতারক ফারুক তার ঘরে প্রবেশ করলে একপর্যায় হালিমার খালা দেখে ফেলায় তিনি তাদের ঘরে আটকে রেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়।

হালিমার মামা স্বপন মিয়া (৩৫) বলেন, হালিমা আমার ভাগনী তার পিতা- মাতা মৃত্যু বরণ করায় সে আমাদের বাড়িতেই থাকিয়া মহেশপুর উচ্চ বিদ্যালয় হইতে এস এস সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়াছে।

তিনি বলেন, বিবাহিত ও দুঃচরিত্র প্রকৃতির লোক ফারুক। সে তার স্ত্রী রাখিয়া অনুমান দুই বছর পূর্বে কৌশলে আমার ভাগীনির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে। গতকাল (শুক্রবার) সে আমাদের বাড়িতে আসলে আমার বোন খাদিজা আক্তার (২৫) তা দেখতে ফারুককে ঘরে আটকিয়ে আমাদের খবর দেয়।

পরবর্তীতে ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ আবুল হাশেম ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের মাধ্যেমে আপোষ মিমাংসা অর্থাৎ ফারুককে আমার ভাগীনিকে বিবাহের কথা বলিলে ফারুক আমার ভাগনিকে বিবাহ করিতে অস্বীকার করায় শুক্রবার ১১মার্চ রাতে অনুমান সাড়ে দশটার সময় আমার ভাগনি মনের দুঃখে তাহার ইজ্জত হারানো ভয়ে আমাদের বসত ঘরে সকলের অগোচরে বিষ পান করিয়া চটপট করিতে থাকে। এ অবস্থা দেখে আমি ও আমাদের পরিবারের লোকজন এবং আশপাশের লোকজন আমার ভাগনিকে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়া ভর্তি করি। বর্তমানে আমার ভাগনি মোছাঃ হালিমা আক্তার (১৮) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০ নং ওয়ার্ডে মুমুর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে।

এ বিষয়ে থানায় খবর দিলে থানার পুলিশ এসে ফারুককে আমাদের হেফাজত হতে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ মো: আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, মেয়ের মামা বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করছেন। আসামী আটক করে আদালতে পাঠানো হয়ছে।

আরিফুল/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.