October 2, 2022

আসন্ন ৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে। ১৯ জেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তাঁরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পথে। বাকি ৪২ জেলার মধ্যে ২৭টিতে দলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

যে ২৭ জেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে, এর মধ্যে আট জেলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী শুধু বিদ্রোহীরাই। বাকি ১৫ জেলায় আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক নেতা জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাংগঠনিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তবে যে বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের কোনো পদে নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে তেমন কিছু করণীয় নেই।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচনগুলোর মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে দল। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক বা না হোক, বিদ্রোহীদের দলীয়ভাবে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে বসিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও কোনো তৎপরতা চালানো হবে না।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিদ্রোহীদের বিষয়ে আমরা কঠোর থাকব। বিদ্রোহীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ’

গত বৃহস্পতিবার ছিল জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। আগামীকাল রবিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর। এর পরই বোঝা যাবে, শেষ পর্যন্ত কতজন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন।

২৭ জেলায় আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী

দেশের ২৭ জেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জেলাগুলো হলো গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, জয়পুরহাট, রাজশাহী, নরসিংদী, নড়াইল, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, চাঁদপুর, বগুড়া, পাবনা, মাগুরা, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, নোয়াখালী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পিরোজপুর, রাজবাড়ী, দিনাজপুর, হবিগঞ্জ, খুলনা, শেরপুর, ঝিনাইদহ ও রংপুর।

১৫ জেলায় আ. লীগের বিদ্রোহী নেই ১৫ জেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। এ জেলাগুলো হলো পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, বরিশাল, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, পটুয়াখালী ও নাটোর।

আট জেলায় আ. লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আ. লীগ : আট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে শুধু দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব জেলায় অন্য কোনো দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। এ আট জেলা হলো নড়াইল, খুলনা, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, নোয়াখালী, পাবনা, বগুড়া ও মেহেরপুর।

১৩ জেলার বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলীয় পদে নেই : বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে ১৪ জেলার প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পদে রয়েছেন। ১৩ জেলার প্রার্থীরা দলের কোনো পদে নেই। এ জেলাগুলো হলো নড়াইল, মেহেরপুর, চাঁদপুর, বগুড়া, পাবনা, মাগুরা, নীলফামারী, নোয়াখালী, খুলনা, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রংপুর।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, দলের পদে থাকা বিদ্রোহী নেতাদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে পারেন কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু যাঁরা দলের কোনো পদে নেই, তাঁদের সেভাবে চাপ দেওয়া যায় না। পদে না থাকা নেতারা সাংগঠনিক শাস্তিরও পরোয়া করেন না।

কঠোর অবস্থানে থাকবে দল : আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, দলের মধ্যে কেউ কেউ চেয়েছিলেন, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাংগঠনিক শাস্তির বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হওয়ার কৌশল নিতে, কিন্তু দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় এ বিষয়ে সম্মতি দেয়নি। ফলে ভবিষ্যতে দলের পদ কিংবা নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার সবারই আছে। কিন্তু দল করলে অবশ্যই দলের শৃঙ্খলা মানতে হবে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিদ্রোহীদের বিষয়ে আমরা আগের মতো কঠোর অবস্থানেই থাকব। দলের পক্ষ থেকে তাদের বসিয়ে দেওয়ার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না।’

বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.