বিএনপির পাঁচ বছরের দুঃশাসন

জামাত জোট সরকারের ৫বছর ছিলো দুর্নীতি, দুঃশাসন আর লুটপাটের ৫বছর। রাস্ট্র নামের যন্ত্রটিকে বিকল করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত লন্ডনে আশ্রয়গ্রহণকারী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাওয়া ভবনকে ঘিরে শুরু করে এক অপশাসনের রাজত্ব। বাংলাদেশকে এমন একটি দেশে পরিণত হয়। যে দেশে রাষ্ট্রের আইন অচল হয় ব্যক্তিগত একজনের ইচ্ছায়। এক ধরনের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। যুবরাজ হয়ে ওঠেন রাষ্ট্রের অধিস্বর। টেন্ডার চাঁদাবাজি নিয়োগ বদলী সবই নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে একটি ভবন থেকে। বাংলাদেশ উপর্যুপরি পাঁচবার দুনীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়।

ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর নোংরা সর্বগ্রাসী খেলায় মেতে বিএনপি ওয়ান ইলেভেন ডেকে আনে। নির্বাসিত হয় রাজনীতি গনতন্ত্র। এমনই এক সময় শেখ হাসিনা নেত্রী থেকে হয়ে ওঠেন রাষ্ট্র নায়ক। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি শুধু দেশ নয় আন্তর্জাতিক ভাবে গড়ে তোলেন জনমত। তিনি নির্যাতিত হন বার বার। তার দেশে ফেরার উপর জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা।

শেষমেশ মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করেন। কিন্তু হিমালয় অতিক্রম মতই সকল বাধা আর প্রতিকূলতা অপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ফিরে আসেন জনতার মাঝে। জনতার দাবিকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন।ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনচুতাংশ আসন পেয়ে এক অভূতপূর্ব বিজয় উপহার দেন জাতিকে। কিন্তু বিজয় তাকে উচ্ছ্বসিত করেনি, তাকে অহংকারী করেনি বরং তাকে করেছে দায়িত্বশীল আরও সংযমী। দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রতিটি কথা প্রতিটি পদক্ষেপই দলের উর্ধ্বে ওঠার এক রাষ্ট্র নায়কের দৃঢ়চিত্ত পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। ছাত্রদের সহিংসতা বন্ধে তিনি যে ভাবে কঠোর হয়েছেন তেমনি বিচক্ষণতা দেখিয়েছেন বিডিআর বিদ্রোহ দমনে।

এছাড়াও সারের মূল্য কমনো আর গরীব মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা বেষ্টনীর তার উদ্যোগগুলোর সুফল আমরা নিশ্চয়ই খুব শীঘ্রই পাব। কিন্তু এ সরকারের প্রথম তিন মাসের একটি বিষয় স্পর্শষ্ট। তা হলো ষড়যন্ত্র কারীরা এখনও তৎপর। তারা ২০০৪এ একুশে আগষ্টে যে ভাবে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে হত্যা করতে চেয়েছিল এখনও সে ভাবে তৎপর। শেখ হাসিনা সামনে আরও কঠিন সময় কিন্তু আমাদের বিশ্বাস এ সময়ে অতিক্রম করে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দিকে তিনি দেশকে এগিয়ে নিবেন। শেখ হাসিনার হাতে থাকলে দেশ, পথ হারাবে না প্রিয় বাংলাদেশ।

লেখক: বিএম জাহিদ হাসান, সাবেক সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.