বার্তা বাজারে সংবাদ প্রকাশের পর চালু হয়েছে এক্সরে মেশিন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও তা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সবকিছু থেকেও যেনো নেই! “এই শিরোনামে বার্তা বাজারে সংবাদ প্রকাশের পর গত মাস থেকে চালু হয়েছে এক্সরে মেশিন, যোগদান করেছেন ১০ জন ডাক্তার, সংযুক্ত হয়েছে নতুন ডেল্টা চেয়ার, নিরাপত্তার জন্য লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও বুধবার থেকে চালু করা হয়েছে আধুনিক জেনারেটর এবং শীগ্রই চালু হচ্ছে অপারেশন থিয়েটার। হাসপাতালের দেয়ালে, সামনেসহ বিভিন্ন যায়গায় শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা মূলক ব্যানার ফেস্টুন।

হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ৫০ সয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটিতে প্রথম শ্রেনির ৩২ টি পদ থাকলেও ২১ পদ শুন্য ছিলো। ডাক্তার ও জনবলের অভাবে বন্ধ ছিল অপারেশন থিয়েটার, অপারেটর ও লো ভোল্টেজের কারণে বন্ধ ছিল এক্সরে মেশিন এরকম বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সবকিছু থেকেও যেনো নেই! ” এই শিরোনামে বার্তাবাজারে সংবাদ প্রাকাশিত হয়।

সংবাদ প্রকাশের পর কতৃপক্ষের নজরে আসে তারপর বুধবার (১৬ মার্চ) থেকে সংযুক্ত করা হয়েছে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আধুনিক জেনারেটর, আনা হয়েছে নতুন ডেল্টা চেয়ার, চালু হয়েছে এক্সরে মেশিন সাথে যুক্ত হয়েছে আধুনিক কেবিন একটি, এসি কেবিন একটি, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত একটি এসি কেবিনের কাজ চলমান। চালু হয়েছে শিশুদের জন্য আইএমসি কর্ণার, এনসিডি কর্ণার, মায়েদের জন্য এএনসি কর্ণার, জরায়ু মুখের ক্যান্সার পরিক্ষার জন্য চালু হয়েছে ভায়া কর্ণার।

এছাড়াও নিরাপত্তা ও অপরাধ রোধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বমোট ১৪ টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আগের দশটি সিসি ক্যামেরার মধ্যে আটটি সিসি ক্যামেরা নষ্ট ছিল। নষ্ট সিসি ক্যামেরাগুলি মেরামত করা হয় এবং সাথে নতুন করে আরো চারটি নতুন সিসি ক্যামেরা স্হাপন করা হয়। হাসপাতালের নিচতলা থেকে দ্বিতীয় তলায় সর্বমোট ১৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

এরমধ্যে রয়েছে জরুরি বিভাগ, আউট ডোর, গাইনী ওয়ার্ড, পুরুষ ওয়ার্ড, মহিলা ওয়ার্ড ও হাসপাতালের সম্মুখ ভাগে এ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এখন থেকে সরকারি এই হাসপাতালটিতে চুরি, ছিনতাই, দালালদের দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও কমে আসবে বলে রোগীদের আত্মীয়স্বজনরা মনে করছেন।

১০ বছর অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকায় এসি মেশিনসহ অটোক্লাব মেশিন, এ্যানেসথেসিয়া মেশিন, ডায়াথার্মী মেশিন, ডেলিভারি টেবিল, ওটি টেবিল, ওটি লাইট, সার্জারি যন্ত্রপাতি অযত্নে ধুলা-বালি মরিচা পড়ে প্রায় অকেজো হওয়ার পথে, এখন এসব যন্ত্রপাতি সংস্কার করা হচ্ছে খুব শীগ্রই চালু করা হবে ওটি।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ফেব্রুয়ারী মাসে এক আদেশে ৪২ তম বিসিএস হতে দশজন সহকারী সার্জনকে এই হাসপাতালে পদায়ন করে। এর প্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ে যোগদান করেন ডাঃ বাইতুন জাবিন, ডাঃ মোঃ মিঠুন রানা, ডাঃ আলমগীর হোসেন, ডাঃ প্রবাল সরকার, ডাঃ মেহেরুন্নেছা তমা, ডাঃ সুমাইয়া রহমান, ডাঃ ফাতেমা জাহান শিমুল, ডাঃ ফারহানা জাহান পুনম, ডাঃ মাহফুজা আক্তার, ডাঃ ফারুক প্রধান।

এছাড়াও বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (এ্যানেঃ) একজনের অনুমোদিত পদ থাকলেও ডাক্তার নেই , জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারী) একজনের অনুমোদিত পদ থাকলেও সার্জারী ডাক্তার নেই, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) দুইজনের অনুমোদিত পদ থাকলেও নেই কোন শিশু ডাক্তার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ( অর্থোপেডিক) একজনের অনুমোদিত পদ থাকলেও নেই কোন অর্থোপেডিক ডাক্তার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ( চক্ষু) একজনের অনুমোদিত পদ থাকলেও নেই কোন চক্ষু ডাক্তার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ( ইএনটি) একজনের অনুমোদিত পদ থাকলেও পদটি শূন্য, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ( কার্ডিও) একজনের অনুমোদিত পদটি শূন্য, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ( চর্ম ও যৌন) একজনের অনুমোদিত পদ থাকলেও নেই কোন চর্ম ও যৌন ডাক্তার, দুই জন মেডিকেল অফিসারের অনুমোদিত পদ থাকলেও নেই কোন মেডিকেল অফিসার।

এই পদ গুলোসহ নার্স ও তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেনীর লোকবল পদায়নের দাবী করেছে সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নূর-এ-আলম জানান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এখানে নতুন করে দশজন ডাক্তার পদায়ন করেছে। এটা সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের বড় একটি উপহার। এতে সেবার মান ও হাসপাতালের সার্বিক কর্মকান্ড আরো গতিশীল হবে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর অন্যান্য পদগুলো পুরনের জন্যও মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ উপজেলায় কোভিট-১৯ এর টিকার প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ৭৪% এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ৪৪% লোক, বুস্টার ডোজের কাজ চলমান। পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমি যোগদানের আগে ১০ টি সিসিটিভির ক্যামেরকর মধ্যে ৮ নষ্ট ছিল, এগুলো ঠিক করে সাথে নতুন করে আরো চারটি সিসি ক্যামেরা সহ মোট ১৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আধুনিক জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে, আনা হয়েছে নতুন ডেল্টা চেয়ার, চালু হয়েছে এক্সরে মেশিন সাথে যুক্ত হয়েছে আধুনিক কেবিন একটি, এসি কেবিন একটি, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত একটি এসি কেবিনের কাজ চলমান। চালু হয়েছে শিশুদের জন্য আইএমসি কর্ণার, এনসিডি কর্ণার, মায়েদের জন্য এএনসি কর্ণার, জরায়ু মুখের ক্যান্সার পরিক্ষার জন্য চালু হয়েছে ভায়া কর্ণার। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালে আরো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

হুমায়ুন/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.