September 26, 2022

পটুয়াখালীর বাউফলকে কাগজে কলমে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসাবে ঘোষনা করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরবাসুদেব পাশায় এখনো জ্বলেনি বিদ্যুতের আলো।

অপরদিকে সরঞ্জামের অভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছেন না কয়েক হাজার গ্রাহক। অথচ আগামীকাল এ জেলার কলাপাড়ায় পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষনা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাউফলে বিদ্যুৎ বিভাগের গাফলিতির জন্যই হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎ বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বাউফলে ২ হাজার ৬৮৬.৭ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইনের আওতায় ১ লাখ ২ হাজার ৮৪৪ জন গ্রাহক রয়েছে। বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সূত্র অনুযায়ী এই মূহুর্তে সংযোগ পেতে আবেদন রয়েছে ২৫৪ জনের কিন্তু মিটারের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার এবং সংযোগ তারের চাহিদা রয়েছে ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি।

এছাড়া উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছন্ন দ্বীপ চর বাসুদেবপাশা নামের একটি গ্রামে ২৫ টি পরিবার বসবাস করছেন। সেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মসজিদ-মাদ্রাসাও রয়েছে। কিন্তু সেখানে কোন বিদ্যুৎ সুবিধাই নেই। নদীর অপর পাড়ের ওই চরে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানোর কোন পরিকল্পনাও নেই। ফলে প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ শতভাগ বিদ্যুতায়ণের কথা বলে যাচ্ছেন।

এছাড়াও মিটার সংযোগ পেতে সাধারন মানুযকে পোহাতে হয় ভোগান্তি। বিদুৎ সংযোগ পেতে সরকারি নিয়মানুযায়ী ৪৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও একজন সাধারন মানুষকে দিতে হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুতের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আবেদন রেজিস্টার অনুযায়ী আবেদকারীদের সংখ্যা ৩ থেকে ৪ হাজার হতে পারে। বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার লোকমান এই আবেদনগুলো দেখভাল করেন। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে এলে লোকমানের শরনাপন্ন হতে হয়।

তিনি সকল নাম অনলাইন করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তার ইচ্ছানুযায়ী পূর্বের আবেদনকারীদের মিটার সংযোগ না দিয়ে নতুন আবেদকারীদের মিটার সংযোগ দিচ্ছেন।

মিলন সিকদার, সুমন মাঝি, সাদের সিকদারসহ একাধিক আবেদনকারী জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে বহুবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু মিটার নেই, তার নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে। অথচ লোকমানকে ম্যানেজ করে অনেকেই নতুন আবেদন করে বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে।

এবিষয়ে জানতে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার লোকমানের নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. ছোহরাব হোসেন জানান, অনলাইনের হিসেব অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত ২৫৪ জনের আবেদন হাতে রয়েছে। তবে আমাদের তিন হাজার মিটার এবং ৭০ কিলোমিটার সংযোগ তারের চাহিদা রয়েছে। সরঞ্জামের সরবরাহ নেই। এখন সকল আবেদন অনলাইন করা হচ্ছে। রেজিস্টারের বিষয়টি তিনি জানেন না।

লোকমানই একমাত্র পূরণো স্টাফ। অন্যরা নতুন। তাই অভিজ্ঞ লোকবলের অভাব রয়েছে। এরপরও কোন অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান।

হান্নান/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.