বশেমুরবিপ্রবিতে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অবৈধ সনদে চাকরির অভিযোগ

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) পদে ভুয়া সনদে দীর্ঘদিন চাকরি করে যাচ্ছেন মোঃ মোরাদ হোসেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। তিনি অবৈধ এমবিএ ও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।।

অভিযোগে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২ এপ্রিল সহকারী রেজিস্ট্রার পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেন তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. এম খায়রুল আলম খান। আরও জানা যায়, তিনি তৎকালীন উপাচার্যের ছোট বোনের জামাই সুবাদে চাকরি পান। ২০১১ সালের ৪ঠা মে এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১লা আগস্ট ২০১১ সালে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে স্থায়ীভাবে যোগদান করেন।

তবে নিয়াগে বিজ্ঞপ্তির ৪নং শর্তাবলীর আবেদন ফর্মের সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ সংযুক্ত করার বিষয়ে বলা হলেও তিনি তা না দিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ সনদ প্রদান করেন। যেখানে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে সিজিপিএ ৩.৮৩ দেখিয়ে একটি ভুয়া সনদ সহ অভিজ্ঞতা সনদের পরিবর্তে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিসার পদে ২০০২ সালে ২৯ মে, সিনিয়র অফিসার পদে ২০০৬ সালে ১ই জুন এবং সহকারী রেজিস্ট্রার পদে ২০০৯ সালে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩টি নিয়োগের ফটোকপি সংযুক্ত আবেদন পত্রে যুক্ত করেন।

তবে, দেখা যায় মোরাদ হোসেনের দাখিল করা এমবিএ সনদে রোল, নিবন্ধন, ক্রমিক নম্বর ও শিক্ষাবর্ষের উল্লেখ নেই।

এদিকে বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকায় ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট প্রকাশিত এক সংবাদের মাধ্যমে জানা যায় যে, শিক্ষা মন্ত্রনালয় ২০০৬ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়কে অবৈধ ঘোষণা করেছিল।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। স্থগিত আদেশ নিয়ে এতদিন বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম অবৈধভাবে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবৈধ ঘোষণা করাকে সঠিক সিদ্ধান্ত হিসাবে গুরুত্ব দিয়েছেন হাইকোর্ট এবং ২০০৬ সালের পরে চালিয়ে যাওয়া সকল কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ মোরাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য এ কি উ এম মাহবুব বলেন,”এটা বাদ দেন তো আপনারা। এই ঘরের ভেতর ওনার সাব অর্ডিনেটরা এগুলো শুরু করে দিছে। আপনারা বিশ্ববিদ্যালয় বুঝেন না? ইনি একটা কম্পিটিটর লোক। রেজিস্ট্রারকে তাড়ানোর ব্যবস্থা করতেছে। তারে তাড়ালে আমি অকেজো হয়ে যাবো।”

তিনি আরও বলেন, “রেজিস্ট্রার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করা। তার দারুল ইহসানের মাস্টার্স ডিগ্রী দিয়ে কি হবে? এগুলো দিয়ে তোমরা কি করতে চাচ্ছো? আমার ঘরের ভিতর হাজারটা সমস্যা তার মধ্যে সময় নষ্ট করে এসব করার দরকার নাই। এগুলো বাদ দাও তোমরা।”

প্রসঙ্গত, মোঃ মোরাদ হোসেন ১/৪/২০০০ থেকে ১৫/৪/২০০২ তারিখ পর্যন্ত কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পে চাকুরি করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে অস্থায়ী ভিত্তিতে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসাবে যোগদান করে পুনরায় ১/৮/২০১১ তারিখে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে স্থায়ীভাবে যোগদান করে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উপ-রেজিস্ট্রার পদে আপগ্রেডেশন পান। বর্তমানে তিনি ১/৯/২১ তারিখ থেকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসাবে কর্মরত আছেন।

সাগর/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.