বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ নাটকে আপ্লুত দর্শক

পিনপতন নিরবতায় দর্শকের চোখ তখনও মঞ্চে। দৃশ্যপট বদলে এবার কথা বলছেন বঙ্গবন্ধু। পুরো অডিটোরিয়াম নিস্তব্ধ। নাটকের শুরুতেই দেখা মেলে বঙ্গবন্ধু জেলখানার গরাদে ভাবগাম্ভীর্যতায় পাইপ টানছেন। দর্শকের চোখ তখন বঙ্গবন্ধুর দিকে। বঙ্গবন্ধু বলে উঠলেন, আর আমাদের দাবায়া রাখতে পারবা না।

এরপর দৃশ্য বদলে কথা বলে উঠলেন শেখ হাসিনা। বললেন তার পিতার লিখে যাওয়া ইতিহাসের কথা। ‘কারাগারের রোজনামচা’ নাটকে জাতীয় পতাকায় জড়িয়ে বালিকা অভিনেত্রীর আবেগঘন শেষ সংলাপে অশ্রু সজল হয়ে পড়েন দর্শকরা। নাটক শেষ হলেও তিন শতাধিক দর্শক তখনো আসন ত্যাগ করেননি। এ যেন শেষ হয়েও হলো না শেষ।

রোববার (১৪ মার্চ) সন্ধায় সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী রচনা ‘কারাগারের রোজনামচা’ অবলম্বনে সপ্তম বারের মতো নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে।

মঞ্চও যে কখনো কখনো হয়ে উঠে ইতিহাসের পাতা তারই প্রমাণ মিললো যেন ‘কারাগারের রোজনামচা’ মঞ্চায়নেও। বঙ্গবন্ধু, জেলখানা, শোষকের অত্যাচার আর জীবনের নানা কথার পঙ্তিমালা দর্শককে আন্দোলিত করেছে বারবার। নাটকটি উপভোগ করতে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিককর্মী ও সমাজসেবীরা।

মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি নাট্যদল এ নাটকটি মঞ্চায়ন করেছে। কারাগারের রোজনামচা রচনাটিকে নাট্যরূপ দিয়েছেন শাহীন রহমান এবং নির্দেশনায় ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার মাহমুদুল হাসান লালন।
৫২ পৃষ্ঠার ডায়েরি থেকেই কারাগারের রোজনামচা রচনা। আর এ থেকেই নাটক।

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের মোকাদ্দেস ইসলাম নামে এক ছাত্র ছিলেন দর্শক সারিতে। তিনি অনুভূতি জানিয়ে বলেন,আমি অভিভূত। বঙ্গবন্ধুর কারাগারের জীবন, তার ব্যক্তিত্ব, অসাধার নেতৃত্বের গুণাবলী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এ নাটকে। প্রত্যেকটা দৃশ্য এত জীবন্ত ও প্রাণবন্ত ছিলো যে মনে হচ্ছে যেন চোখের সামনে ওই সময়টা দেখতে পাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করা রোকনুজ্জামান রাসেল বলেন, এটা অসাধারণ একটি অনুভূতি। অভিনেত্রী নীলা রহমান বলেন, শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে দারুণ লাগছে। শেখ হাসিনাকে নিয়ে যে নাটকে অভিনয় করতে পারবো তা কখনও ভাবিনি।

সিরাজগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ গৌর বললেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের উপর করা নাটকটি দারুণ দর্শক প্রিয়তা পেয়েছে। ছাত্রনেতা আশিক আহম্মদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন নিয়ে করা এ নাটকটি আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি যেন ৭০ দশকে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার মাহমুদুল হাসান লালন বলেন, শিল্পকলার যেকোন অনুষ্ঠানেই এখন থেকে এই নাটক প্রদর্শন করা হবে। বঙ্গবন্ধুকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এমন আয়োজন আগামীর প্রজন্মের মানুষকে ইতিহাস জানাতে সহায়ক হবে।

মালেক/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.