ফুটবল ক্রিকেট দুটোতেই সাফল্য নারীদের

এখন যে কোনো আলোচনায় কোভিড-১৯ কথাটা উঠে আসে। করোনা শব্দটা শুনতে হয়। সমাজ, অর্থনীতি, ধর্ম কিংবা খেলার মাঠে, সব জায়গায় করোনা শব্দটা প্রতিটা মুহূর্ত মানুষের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে রূপ-লাবণ্য মাস্ক নামের মুখোশে ঢাকা পড়েছে। এতো বিধিনিষেধের মধ্যেও দেশের ক্রীড়াঙ্গন ২০২১ সালটা সবচেয়ে ব্যস্ততার মধ্যে কাটিয়েছে। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা দেশ ঢাকায় এসেছিল।

২০২১ সালটা বাংলাদেশের খেলা প্রিয় মানুষগুলো টিভির পর্দায় চোখ রেখেছে। বিদেশের খেলাগুলা ছাড়াও দেশের কিছু কিছু খেলা স্টেডিয়ামে বসে দেখার সুযোগ ছিল না, করোনার কারণে। দর্শক অনুমতি পেলেও স্বল্প। তারপরও দেশের খেলাধুলা এবার সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততার মধ্যে পার করেছে। একের পর এক আন্তর্জাতিক খেলা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। তিন বছর পর প্রিমিয়ার হকি লিগ মাঠে গাড়িয়েছিল এবার। করোনায় দুই বার পিছিয়ে যাওয়া এশিয়ান হকি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি প্রথমবার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। এই বিজয়ের মাসে দেশের জাতীয় সংগীত শুনেছে ৭৫ দেশ। প্রত্যেকটা ম্যাচ ৭৫টা দেশে টিভি সম্প্রচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাগতিক হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। উপমহাদেশের শক্তিশালী দল ভারত-পাকিস্তান, এশিয়ার আরেক শক্তিধর জাপান-কোরিয়া ঢাকায় খেলে গেল। ভারত-পাকিস্তান ছয় দিনের ব্যবধানে দুই বার খেলেছে। চ্যাম্পিয়ন হয় দক্ষিণ কোরিয়া।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ক্রিকেট। ছেলেদের ক্রিকেট সমালোচিত ছিল আর নারী ক্রিকেট প্রশংসা কুড়িয়েছে। জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজ জয় করে। মার্চে নিউজিল্যান্ড গিয়ে ৩-০ ব্যবধানে হারের লজ্জা মুখে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পায়। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল। সব কিছু মুছে দিয়েছে টি-২০ বিশ্বকাপ ব্যর্থতা।ছেলেদের ক্রিকেটে টি-২০ বিশ্বকাপে ভরাডুবি হয়েছে। মূল পর্বে গিয়ে একটি ম্যাচও জিতেনি বাংলাদেশ। সমালোচিত হয়েছেন ক্রিকেটাররা। সমালোচিত ছিলেন কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো, তার কোচিং স্টাফ, সিলেকশন কমিটি, খেলোয়াড় ছিল অভ্যন্তরীণ কোন্দল। পারফরম্যান্স নিয়ে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের মন্তব্য ক্রিকেট পাড়ায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। খেলোয়াড়রা অভিমান করেছিলেন। সমালোচনার জবাবে আয়নায় মুখ দেখতে বলেছিলেন মুশফিকুর রহিম। তার এই মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘদিন চলল আয়নাবাজির আলোচনা। সবশেষে পাপনই সবাইকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.