পৌষমেলা নিয়েও রাজনীতি শান্তিনিকেতনে

রবীন্দ্রনাথের সময় থেকেই শান্তিনিকেতনে পৌষমেলার ঐতিহ্য শুরু হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর পৌষ উৎসব করে মেলার সূচনা হয়। গতবছর করোনার কারণে মেলা বন্ধ ছিল। এ বছর কেন বন্ধ, তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। অন্যদিকে, বোলপুরে বিকল্প পৌষমেলা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী পৌষমেলা না হওয়ার দায় রাজ্য সরকারের উপর চাপিয়েছিলেন। পৌষ উৎসব পালন করে তিনি জানিয়েছিলেন, পৌষমেলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারকে তিনি চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকার কোনো উত্তর দেয়নি। সে কারণেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ মেলা না করার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সি এর উত্তরে বলেছেন, ”বিদ্যুৎ মিথ্যা বলছেন। রাজ্য সরকারের কাছে এমন কোনো চিঠি নেই।” এই নিয়ে তীব্র চাপানউতোর চলছে।

বস্তুত, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিশ্বভারতীর উপাচার্য হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্ক লেগে আছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীরা এবং আশ্রমিকদের একাংশ নানা অভিযোগ করেছেন।

বিশ্বভারতী আয়োজিত পৌষমেলা বন্ধ থাকলেও বিকল্প পৌষমেলার আয়োজন করেছে একটি সংগঠন। পৌষমেলার মাঠ থেকে সামান্য দূরে অন্য একটি মাঠে মেলার আয়োজন হয়েছে। প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর মেলার উদ্বোধন করেন। সাধারণত পৌঁষমেলায় যে সব রীতি পালন করা হয়, এই মেলার আয়োজনেও তা করা হয়েছে। পদযাত্রা করে গিয়ে মেলার উদ্বোধন হয়েছে।

মেলায় যারা যাচ্ছেন, তাদের সকলের মুখেই একই বিতর্কের কথা ঘুরছে। রাজ্যের মন্ত্রীর মন্তব্যের পর অবশ্য উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী এখনো পর্যন্ত আর কোনো কথা বলেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.