পীরগঞ্জ থেকে শতাধিক জন্ম সনদ নিয়েছে একটি চক্র

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়ন থেকে অন লাইনে আবেদন করে জন্ম সনদ নিয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলার শতাধিক নারী-পুরুষ। এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা রুজুর পর ওই ইউনিয়নের উদ্যোক্তা নুর আলম হাবিব (২২) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

এর আগে গত ৩ মার্চ রাতে কাবিলপুর ইউনিয়নের সচিব আমজাদ হোসেন এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, ২০১৮ সাল থেকে পীরগঞ্জের কাবিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা হিসেবে নুর আলম হাবিব দায়িত্ধসঢ়;র পালন করছে।

সে উক্ত ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে। ওই উদ্যোক্তা সম্প্রতি একটি চক্রের সাথে আঁতাত করে মোটা অংকের বিনিময়ে কাবিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে বর্তমান ঠিকানা পীরগঞ্জ দেখিয়ে অনলাইনে আবেদন করে।

এতে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলার নারী-পুরুষ উল্লেখিত জেলায় স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা পীরগঞ্জের কাবিলপুর ইউনিয়ন দিয়ে অনলাইনে আবেদন করে জন্ম সনদ নিয়েছেন। ওই আবেদনগুলো অনলাইনের মাধ্যমে উদ্যোক্তার কাছ থেকে ইউনিয়নটির সচিব এবং চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়।

চেয়ারম্যান অনুমোদন দেয়ার পর সচিবের কাছ থেকে পুনরায় জন্ম সনদগুলো উদ্যোক্তার কাছে অনলাইনের মাধ্যমে এলে সেগুলো ‘পিডিএফ ফাইল’ করে চক্রটির কাছে পাঠিয়ে দেয়। বিধান রয়েছে,উল্লেখিত প্রক্রিয়ার পর জন্ম সনদ প্রিন্ট করে সচিব ও চেয়ারম্যানের স্বারের পর আবেদনকারীকে হস্তান্তরের।

কিন্তু ওই উদ্যোক্তা জন্ম সনদগুলো পিডিএফ ফাইল করে চক্রটির কাছে প্রেরন করেছে। অনলাইনে আবেদনগুলোতে দেখা গেছে, নারায়নগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ উপজেলার তানজিলা আফরিন জেরিন, চট্টগ্রামের সন্দীপের মোঃ ইনকিয়াদ ইসলাম, বান্দরবনের নাইক্ষ্যাংছড়ির ইমাম হোসেন, লক্ষীপুরের ভবানীগঞ্জের রহিম জন্ম সনদের জন্য স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। তারা সবাই কাবিলপুর ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। তবে কোন গ্রাম নেই। এভাবেই শতাধিক জন্ম সনদ দেয়া হয়েছে বলে সুত্রটি জানায়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ওই উদ্যোক্তা ইউনিয়নটির জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আইডি ও পাসওয়ার্ড কৌশলে সংগ্রহ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন জেলার স্থায়ী ঠিকানা ও পীরগঞ্জের বর্তমান ঠিকানা দিয়ে শতাধিক নারী-পুরুষকে জন্ম সনদ প্রদান করেছে। কাবিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আমজাদ হোসেন বলেন, আমি ১ মার্চ রাতে ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখি, উদ্যোক্তা হাবিব পাসওয়ার্ড লগইন করে শতাধিক জন্ম সনদ দিয়েছে।

এ ঘটনায় তাকে একমাত্র আসামী করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছি। ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি জানান, আমার এবং সচিবের জন্ম ও মৃত্যু আইডি’র পাসওয়ার্ড চুরি করে ওই উদ্যোক্তা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই উদ্যোক্তা স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দীতে বলেন,আমি ম্যাসেঞ্জারে গ্রুপের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তথ্যগুলো পেয়ে বর্তমান ঠিকানা পীরগঞ্জের দিয়ে অনলাইনে আবেদন করেছি। এভাবে ১৫০ টির মতো জন্ম সনদ অনলাইনে আবেদন করে পিডিএফ ফাইল করে ওই গ্রুপে দিয়েছি। এতে আমি প্রতিটিতে ১ হাজার ২’শ টাকা করে পেয়েছি।

আর সরকারী কোষাগারে প্রতিটি জন্ম সনদের জন্য ৫০ টাকা করে জমা দিয়েছি। চেয়ারম্যান আরও বলেন, গত ১ মার্চ রাতে আমি আমার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইনে দেখতে পাই, ৩/৪ দিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি জন্ম সনদ নতুন দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে অনুসন্ধান করে জানতে পারি উদ্যোক্তা এমন অঘটন ঘটিয়েছে।

ওইসব সনদে আমি স্বাক্ষর করিনি। সচিব আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ উদ্যোক্তাকে গ্রেফতার করে। পীরগঞ্জের আরও একাধিক ইউনিয়নে অভিন্ন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পীরগঞ্জ থানার এসআই সাদ্দাম হোসেন বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। ঘটনার সাথে কারা কারা জড়িতরা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোঃ আব্দুল আউয়াল বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আসামীকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

আনজারুল/বার্তাবাজার/এম.এম

Leave a Reply

Your email address will not be published.