পাকুন্দিয়ায় আলুর বাম্পার ফলন, ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আলুর বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে , এ উপজেলায় ১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল কিন্তু আলু চাষ হয়েছে ১ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে।

ভালো ফলন ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকরা এবার উন্নত জাতের- এ্যারিস্ট্রিক, কার্ডিনাল, ডায়ামন্ড, গ্যানোলা, রোমানা, লাল পাকরি, দেশি জাতের- পাকরি, পাহারি পাকরি, বট পাকরি, জাম আলু ও আগাম জাতের-ফ্রেস আলুসহ অন্যান্য জাতের আলু চাষ করেছে।

আলু বীজের মূল্য কম হওয়ায় বিঘা প্রতি আলুতে এবার খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘায় উৎপাদন হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ মন। বাম্পার ফলন এবং বাজার দর ভালো হওয়ায় কৃষকরা খুশী। বর্তমানে জাত ভেদে প্রতি মন আলুর বাজার দর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। উপজেলার পৌর সদরসহ নয়টি ইউনিয়নের কৃষকরা এখন আলু তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষি অফিস ও স্থানীয় কৃষকরা জানান, উপজেলায় আলু তোলা শুরু হয়েছে। গত বছরের মতো এবারও জেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা মুনাফা পাচ্ছেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের সজল, জামাল উদ্দিন, চরফরাদী ইউনিয়নের হিমেল, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেন দুলাল, পৌর সদরের কামরুল ইসলাম, শহীদুল্লাহ্ সহ অনেকে জানান, ভালো ফলন ও দাম পাওয়ার আশায় এবার তারা আলু চাষ করেছেন। তাদের দাবি, কৃষকদের স্বার্থে সরকার আলুর ভালো দাম নিশ্চিত করবে। এজন্য আলু আমদানি বন্ধ করে রফতানির উদ্যোগ জন্য এখন থেকেই নেওয়া প্রয়োজন।

এই উপজেলায় একটা সরকারি ও দুইটি বেসরকারি হিমাগার রয়েছে। এতে করে সংরক্ষণের বাড়তি সুবিধা হওয়ায় ভাল দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। এ উপজেলা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আলু, সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল সংগ্রহ করতে পারেন কৃষকরা এই তিন হিমাগারে।

আনোয়ার খালী গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, আগাম রোপনের আলু বিক্রি করেছি প্রতি মন ৭০০ টাকায়। বর্তমানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এতে করে আলু চাষ করে ভাল লাভবান হচ্ছি। সুখিয়া ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামের সজল জানান, গত বছর তিনি ২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। এবার ৫ বিঘায় চাষ করে ইতোমধ্যে ২ বিঘার আলু তোলা শেষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। প্রতি মন ৫৮০ টাকা করে বিক্রি করে তিনি খুশি।

উপজেলার চরটেকি গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, ইরি-বোরো ধান কাটার পর এক একর জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। ৬৫ দিনের মধ্যে আলু পরিপক্ক হয়েছে। আমার এক একর জমির আলুক্ষেত ৮৫ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। আলু চাষে আমার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। স্বল্পসময়ে ৫৫ হাজার টাকা আয় করেছি। বর্তমানে ওই জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপণ করেছি আমি।

পৌর সদরের আনোয়ার খালী গ্রামের কৃষক শহীদুল্লাহ্ বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রথম দিকে যে আবহাওয়া শুরু হয়েছিল তাতে আমরা ভয় পেয়েছিলাম। কারণ জমিতে বেশি সময় পানি জমে থাকলে আলু পচে যায়। পরে আবহাওয়া ভালো হয়েছে আলুরও ফলন ভালো হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকদের আলুসহ অন্যান্য শাকসবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। বাজারে আলুর দাম ভালো পেয়ে কৃষকরা বেশ উপকৃত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকার কৃষকরা একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন করছেন। এর মধ্যে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আলুর ফলন যাতে ভালো হয় সেজন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের সাথে নিয়মিত ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং উঠান বৈঠক করেছে। এবার আবহাওয়াও ছিল অনুকূলে এবং কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছে।

হুমায়ুন/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.