September 26, 2022

ফুলজোড় নদী পাশেই বসবাস করেন ইমরুজ হোসেন। পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক। ওই নদী তার পৈতৃক ভিটেমাটি কেড়ে নিয়েছে অনেক আগেই। আর বাদ রয়েছে দেড় শতক জায়গায়। সেখানেই টিনের ঘরে দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করেন তিনি। সম্প্রতিক ওই নদীর বাম তীর সংরক্ষণ কাজে তার বাড়ির অনেকখানি জায়গা কেটে ফেলেছে ঠিকাদারের লোকজন।

ইমরুজ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জানান, ৩৯ দিন আগে পাউবোর ঠিকাদার ও মেয়র এসে তার বসতঘরের প্রায় পুরোটাই ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। এমন আতঙ্কে শুধু ইমরুজ নয়। রয়েছে স্থানীয় ৩০ টি পরিবার।

এদিকে সিরাজগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ফুলজোর নদীর বামতীর ভাঙ্গন রোধে নদী তীর কাজ চলমান রয়েছে।

সোমবার সরেজমিন ঘুরে ওই নদীর তীরবর্তী ধানগড়া ও রণতিথা এলাকায় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্থায়ী মাটি কেটে স্লপ তৈরি করছেন। যদিও এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, জেলা প্রশাসক, পাউবো সিরাজগঞ্জ ও নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

রণতিথা গ্রামের আবু ইউসুফ বলেন, আমরা আমাদের রেকর্ডকৃত সম্পত্তিতে বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে বসবাস করছি। এখন আমাদের ঘর ভেঙে ফেলার জন্য চিঠি দিছে। আমরা যাবো কোথায় এই ভিটেমাটি ছেড়ে। একই কথা বলেন খতিগ্রস্ত জালাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, সরকার যেখানে গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। আর সেখানে গৃহহারা করার উদ্যোগ নিয়েছে পাউবো।

স্থানীয় আয়ুব আলী বলেন, এ উন্নয়নের নামে আমাদের কপালে মাটি চাঁপা দেওয়া হচ্ছে। কেননা বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন তারা।

পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল পাঠান বলেন, পাউবো অবশ্যই তাদের নিয়ম মেনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। আমরা চাই জনগন যাতে কোন ভাবেই খতিগ্রস্ত না হয় ।

এদিকে সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জোবায়ের বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কালে যদি কেউ খতিগ্রস্ত হয় তাহলে তাদের অবশ্যই পুনর্বাসন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়ছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

মালেক/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.