পর্যটক বরণে প্রস্তুত কক্সবাজার, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

গেলো দুই বছর করোনা মহামারীর ধাক্কায় বন্ধ ছিলো সারা দেশের পর্যটন ব্যবসা। অর্থনৈতিক ভাবে সেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে ঈদকে সামনে রেখে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের হোটেল, মোটলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন রূপে সাজিয়ে পর্যটক বরণে নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়েছে। এবারে ঈদের আগেই অর্ধেকের বেশী রুম ভাড়া হয়ে গেছে। তবে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের সমাগম হবে বলে ধারণা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রস্তুত রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটন জোন কলাতলী ও তার আশে পাশের এলাকায় সব মিলিয়ে ছোট বড় ৫শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্টানে অন্তত আড়াই লাখ পর্যটক ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। টানা দুই বছর পর্যটন ব্যবসা বন্ধ থাকায় হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে প্রতিষ্টান গুলোকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় আশায় বুক বেঁধেছে ব্যবসায়ীরা। তাই পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে শহরের তারাকা মানের হোটেল ও প্রতিটি হোটেল-মোটেল, কটেজ ও রেস্তোরা গুলোকে নতুন করে সাজানো হয়েছে।

কলাতলী হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান ‘বার্তা বাজার’কে জানান, এবার টানা ৭দিনের ছুটিতে অন্তত দৈনিক লক্ষাধিক পর্যটকের সমসগম ঘটতে পারে। হোটেল মালিকরা তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতেই ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) এর সভাপতি আনোয়ার কামাল জানান, প্রায় ৬০ শতাংশ রুম অগ্রিম ভাড়া হয়ে গেছে। বাকী রুম গুলোও আজকের মধ্যে ভাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রুম ভাড়া শ্রেণী ভিত্তিক সাধারণ পর্যটকের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ ‘বার্তা বাজার’কে জানান, ইতোপূর্বে সংশ্লিষ্টদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে পর্যটকদের দূর্ভোগ ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কটোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করি এবার পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দে কক্সবাজার ভ্রমন করতে পারবে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বার্তা বাজার’কে জানান, বিগত সময়ের ধারাবাহিকতায় এবারেও ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দুই স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এবার ঈদে পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম গুলো নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বক্ষনিক টহলে থকবে। তাছাড়া সৈকতে টহল টিমের পাশাপাশি হোটেল মোটেল এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা সাদা পোষাকে টহলে থাকবে।

খাঁন মাহমুদ আইউব/বার্তাবাজার/জে আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.