September 26, 2022

নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে চলেছে কুষ্টিয়া কুমারখালী দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রাবেয়া। তার চলার পথ এখনও সহজ নয়। সামাজিক প্রেক্ষাপটে অর্থ, সমাজ ও পরিবার তিনদিক থেকেই তার বাঁধা।

ছোট বেলা থেকেই খেলা ধুলার প্রতি তার চরম আগ্রহ। প্রাইমারি স্কুল থেকে খেলার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে তার। কুমারখালী উপজেলার খয়েরচারা গ্ৰামের মোঃ মামুন হোসেনের মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১৩) তেবাড়িয়া শেরকান্দি ম্যাধমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। তিন ভাই বোনের মধ্যে রাবেয়া ছোট। সব খেলায় পারদর্শী রাবেয়া, ছেলেদের সঙ্গেও নানান খেলাধুলায় মেতে থাকেন।

মেয়েটি ফুটবল, কাবাডি, হ্যান্ডবল, উচ্চ লাফ, ব্যাটমিনটন, ক্রিকেট সহ—সব খেলাতেই সমান পারদর্শী। উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ লাফে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন ইতি মধ্যে। পারিবারিক সাপোর্ট থাকলেও অর্থের জন্য অনেক জায়গায় খেলতে যেতে পারে না রাবেয়া, এমন আক্ষেপ আছে তার কথায়।

সম্প্রতি শীতকালীন প্রতিযোগিতায় (৫০) তম স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে (খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) গোলাপ অঞ্চলের শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উচ্চ লাফে প্রথম স্থান অর্জন করেন। মেয়েটি এখন এলাকার মানুষের কাছে প্রশংসিত ব্যক্তি।

রাবেয়ার সঙ্গে কথা হয়, রাবেয়া জানাই, তার চাওয়া সে বড় খেলোয়ার হবে, কিন্তু ? পরিবারের সেই রকম সামর্থ নেই । অর্থের অভাবে সব খেলা খেলতে যেতে পারে না। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার অংশগ্রহন ছাড়া কোন জায়গায় খেলতে যেতে পারিনা। খেলতে হলে পোষাক সহ খেলার সামগ্রী লাগে। সেই রকম অর্থ আমাদের নেই। কারো কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে আমি আমার স্বপ্ন টা কে বাস্তব করতাম।

রাবেয়ার পিতা মামুন হোসেন বলেন, আমি একজন ভ্যান চালক আমার মেয়ে ছোট কাল থেকেই খেলা ধুলার প্রতি চরম আগ্রহ। ঠিক মতো ভাত কাপুর দিতে পারিনা। খেলার জন্য একটা ড্রেস কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আর্থিক অভাবের কারণে মেয়েটির খেলা ধুলা করাতে পারছি না। সরকার এবং বিত্তশালী রা’ যদি আমার মেয়ের খেলার বিষয়ে সাপোর্ট করতো । তাহলে আমার মেয়েটা বড় খেলোয়ার হতো।

রাবেয়ার তেবাড়িয়া ম্যাধমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, রাবেয়া খাতুন আমাদের স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। তার খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আছে, রাবেয়া অর্থনীতির সাপোর্ট পেলে আরো অনেক দূর যাবে। মেয়েটি (৫০) তম শীতকালীন প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে (২ য়) ও আঞ্চলিক পর্যায়ে (১ ম) স্থান অর্জন করে। আমি তার সাফল্য কামনা করছি।

তেবাড়িয়া শেরকান্দি ম্যাধমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ নিজাম উদ্দিন জানান, রাবেয়া সব খেলাতেই সমান পারদর্শী। তাকে ঠিক মতো নার্সিং করলে, দেশের হয়ে খেলতে তার কোন সমস্যা হবে না । রাবেয়া উচ্চ লাফ, ব্যাটমিনটর, খুব ভালো খেলে থাকে। (৫০) তম শীতকালীন প্রতিযোগিতায় তিন টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। রাবেয়া (১৭ মার্চ) দিনাজপুরে জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ লাফে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

ক্রীড়া সংগঠন গোলাম মর্সেদ মিলন বলেন, রাবেয়া নামে মেয়েটি ছোট কাল থেকে, ফুটবল, উচ্চ লাফ, ব্যাডমিন্টন খেলে আসছে। মেয়েটি থানা, জেলা, বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করছে। আমার জানা মতে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রাবেয়া তার পক্ষে খেলা ধুলার সামগ্রী কেনার মতো এবিলিটি নাই। তার পাশে সমাজের বিত্তবান ও ক্রীড়া সংগঠকদের এগিয়ে আসার আহ্বান করছি।

মোশারফ/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.