October 2, 2022

বেশ কিছু বছর ধরে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়া রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা হেলেনা জাহাঙ্গীর। কিছুদিন আগে ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের পোস্টারকে ঘিরে তুমুল বিতর্কের মুখে পরেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। সেসময় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য পদও বাতিল হয়ে যায় তার।

এর কিছুদিন পর তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, বিদেশি মুদ্রা ও হরিণের চামড়া জব্দ করে গুলশানের একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয় হেলেনা জাহাঙ্গীরকে।

জয় অটো গার্মেন্টস লিমিটেড, জেসি এমব্রয়ডারি অ্যান্ড প্রিন্টিং এবং হুমায়রা স্টিকার লিমিটেডসহ নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। জয়যাত্রা নামে একটি আইপি টেলিভিশনেরও মালিক আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত এই নেত্রী।

যদিও টেলিভিশনটির কোন নিবন্ধন নেই। অনিবন্ধিত এই টেলিভিশনে কাজের জন্য আবারো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে । তবে এর আগে টেলিভিশনটিতে নিয়োগের ব্যাপারে নানা দুর্নীতির কথা উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কিছুদিন আগে আটক হওয়ার পর র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মইন জয়যাত্রা টেলিভিশন সম্পর্কে জানান, বাংলাদেশের ৫০টি জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিল জয়যাত্রা টেলিভিশন। জেলা প্রতিনিধির কাছ থেকে এককালীন ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা নেওয়া হতো। উপজেলা প্রতিনিধির থেকে এককালীন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হতো। এছাড়া জেলা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতিমাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা হাতিয়ে নিতেন হেলেনা।

এছাড়াও দেশের বাইরের প্রতিনিধি নিয়োগে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হতো এবং তাদের থেকে মাসে মাসে ২০ হাজার করে নিতেন।

খোলা গণমাধ্যমে ইতিপূর্বে এমন ন্যাক্কারজনক উপস্থিতির পরেও একটি গণমাধ্যম কিভাবে বার বার গণমাধ্যমের সামনে আসে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনে থাকলেও উত্তর পাওয়া যায়নি কোথাও।

বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.