টেকনাফে প্রধান শিক্ষকের গালে চড় বসালেন কাউন্সিলর কহিনুর

প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে খোদ স্থানীয় বিতর্কিত নারী কাউন্সিলর কহিনুর আক্তারের বিরুদ্ধে। শ্রেণী কক্ষের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য স্কুল কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এই মারধরের শিকার হন সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ দৌল্লাহ। গতকাল (২রা মার্চ) দুপুরে স্কুলের অফিস কক্ষে ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ-দৌল্লাহ জানান, ৬ মাস পূর্বে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের জনৈক ছাত্রী অপ্রাপ্ত বয়সে স্কুল থেকে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। এই বিয়ের ঘটনার পেছনে টেকনাফ পৌরসভার বিতর্কিত কাউন্সিলর কহিনুর আক্তারের প্ররোচনা ও প্রলোব্ধতা রয়েছে বলে সরাসরি দাবী করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ-দৌল্লাহ। সপ্তাহ খানেক পূর্বে ওই কাউন্সিলর কহিনুর স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিকট পালিয়ে বিয়ে করা মেয়েটিকে পূনঃরায় স্কুলে ভর্তির সুযোগ দেয়ার জন্য ফোন করলে প্রধান শিক্ষক অভিভাবকসহ জনৈক ছাত্রীকে স্কুলে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলেন।

ঘটনার দিন সকালে ছাত্রীর মা পুনঃরায় ভর্তি করার প্রস্তাব দিলে প্রধান শিক্ষক তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং একই সাথে তার পড়াশোনা যেন ব্যহত না হয়, সে বিষয়কে নজরে রেখে শুধুমাত্র পার্বিক সাময়ীক পরিক্ষা সহ যাবতীয় উচ্চমাধ্যমিক বোর্ড পরিক্ষাগুলোতে অংশ গ্রহন করার সুযোগ দেয়া হয়। একই সাথে তার আচরন দুষ্টতার কারন দর্শানোর পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত তাকে শ্রেণী কক্ষে ক্লাস করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়।

অতঃপর, কাউন্সিলর কহিনুর কয়েকজন নারীসহ স্কুলের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসময় স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা তাদেরকে স্কুলের চতুর্পাশে ঘেরাও করলে ঘটনা সামাল দিতে স্কুল পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্কুলে উপস্থিত হয়ে কাউন্সিলর কহিনুরের কাছে বিশৃঙ্খলার কারন জানতে চাইলে নারী কাউন্সিলর কহিনুর পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উপস্থিত লোক জনের সামনে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে চড় মারেন বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কহিনুরের কাছে জানতে চাইল তিনি জানান, স্কুলে তাকে সমঝোতার জন্য ডাকা হলে তিনি মিমাংসার চেষ্টা করেন। এবং প্রধান শিক্ষক এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আক্রমন করেন। বর্তমানে তিনি আহত অবস্থায় বাসায় চিকিৎসাধীন। তাছাড়া গণমাধ্যম বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার অপচেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইতিপূর্বে তার সাবেক স্বামী শাহ আলমের সাথে মাদক কারবার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিলো তার বিরুদ্ধে। এমনকি চট্টগ্রাম কাভার্ড ভ্যান থেকে তার সাবেক স্বামীর মালিকানাধীন কাভার্ড ভ্যান থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় গাড়িটির চালকের স্বীকারোক্তি মতে তাকে এজাহার ভূক্ত আসামী করা হয়ে ছিলো। যা পরবর্তীতে কৌশলে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে বাদ পড়ে যায়। এসব অপকর্ম ঢাকতে অভিযুক্ত কহিনুর কৌশলে বাগিয়ে নেন উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রীর পদ। এর পর থেকেই স্থানীয় সাংসদের নাম ভাংগিয়ে এলাকায় যত্রতত্র প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।

এদিকে প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয় এবং উপজেলার ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বার্তাবাজার/এম.এম

Leave a Reply

Your email address will not be published.