October 2, 2022

পটুয়াখালীর বাউফলে সদ্য শেষ হওয়া ইউপি নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করার অপরাধে সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম কাওছার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলামকে জামায়াতের লোক বলায় ‘জামায়াত না’ প্রমাণ করতে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ওই চেয়ারম্যান।

শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে বাউফল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বাউফল সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম। এর আগে গত বুধবার একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে সমাবেশ, মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন করেছে।

বুধবার ১১ টার দিকে অলিপুরা বাজারের ওই সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করায় আওয়ামী লীগ নেতা কাওছারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা দিতে দিতে রাজি না হওয়ায় বেলা সোয়া ১১ টার দিকে অলিপুরা বাজারে জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান জাহিদুলের উপস্থিতিতে তাঁর লোকজন কাওছারের ওপর হামলা করে আহত করে।

এর আগে একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কর্মী অর্জুন শীল ও সোহেলকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকাছাড়া করে জাহিদুল। এখন পর্যন্ত তাঁরা এলাকায় আসতে পারেননি। স্বাধীনতার বিপক্ষের লোক হয়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষের নেতা-কর্মীদের মারধর ও এলাকা ছাড়া করার মিশনে নেমেছেন চেয়ারম্যান জাহিদুল। এটা ভালো ইঙ্গিত মনে হচ্ছে না। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সূর্য্যমনি ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে বাচ্চু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য মো. হারুন অর রশিদ খান, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন খান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুর রব চৌকিদার, যুবলীগ কর্মী সামছুল কবির ওরফে নিশাত প্রমুখ।

আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৯ মার্চ একটি সালিস শেষ করে লোকজন নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। অলিপুরা বাজারে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ নেতা কাওছার হোসেন তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। তখন তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্যপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি পরিস্তিতি স্বাভাবিক করে তাঁর লোকজন নিয়ে চলে আসেন। তাঁর উপস্থিতিতে কাওছারের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা সত্য না। আর ছাত্রলীগ কর্মী অর্জুন শীল ও সোহেলকে মাদক বিক্রেতা আখ্যা দিয়ে বলেন,এলাকার জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে তাদেরকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছে।

তিনি আরও বলেন, তার বাবা সুলতান আহম্মেদ একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার বাবা জামায়াত পছন্দ করতেন না। তিনিও বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার আত্মীয় (ভগ্নিপতি) জামায়াত করলেও তিনি (জাহিদুল) স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগকে পছন্দ করেন। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করবেন। আওয়ামী লীগ যাতে না করতে পারেন এজন্য একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা মো. আলাউদ্দিন মৃধা, মো. লুৎফর রহমানসহ নব নির্বাচিত বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

হান্নান/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.