October 6, 2022

উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম জেলা দিনাজপুরের প্রত্যন্ত উপজেলা ঘোড়াঘাট। জেলা সদর থেকে যার দুরত্ব প্রায় ১০২ কিলোমিটার। ফলে জরুরী মুহুর্তে চিকিৎসা সেবা বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয় এই উপজেলার নাগরিকদের। অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকায় জরুরী মুহুর্তে জীবন মরণের পরীক্ষায় পড়তে হয় এই উপজেলার মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ গুলোর।

৫০ শয্যা বিশিষ্টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও শারীরিক জটিল কোন সমস্যা হলেই এই উপজেলার মানুষদের যেতে হয় জেলা সদর দিনাজপুরে। সেখানে রয়েছে আধুনিক ও উন্নতমানের এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তবে দুরত্ব ও যাতায়াত খরচ বেশি হওয়ায় তারা ছুটে যায় পাশ্ববর্তী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে রংপুর ও বগুড়া জেলার এই দুটি মেডিকেল কলেজের দুরত্ব ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার।

উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্য বলছে, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ১৪৮ দশমিক ৭৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ঘোড়াঘাট উপজেলার মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৪০ জন। তারমধ্যে পুরুষ ৫৯ হাজার ১ জন এবং মহিলা ৫৮ হাজার ৭৩৯ জন। গত ১০ বছরে এই সংখ্যা আরো কয়েক হাজার বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এই মানুষ গুলোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র দুটি। তারমধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি সহ নানা কারণে একটি অ্যাম্বুলেন্স গত ৮ বছর থেকে দুটি টিনের চালার নিচে নিজেই রোগী হয়ে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। বাকি সচল থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সের আবার নেই চালক। হাসপাতালের মালি বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক হিসেবে কাজ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বলছে, এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী সেবা নিতে আসে। তারমধ্যে মহিলারোগীর সংখ্যাই বেশি। অপরদিকে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ জন রোগীর অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন পড়ে। তবে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স থাকায় রোগীদের
চাহিদা অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিতে পারছে না হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

সম্প্রতি সরকার জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে যুক্ত করেছে। তবে ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে টোল ফ্রি এই জরুরী সেবার মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্সকে কল করলে, এই সেবার আওতায় থাকা আম্বুলেন্স আসতে এক ঘন্টারও অধিক সময় লাগে। কোন কোন সময় অপেক্ষা করতে হয় ১ থেকে ৩ ঘন্টা পর্যন্ত। কারণ ঘোড়াঘাট উপজেলার কোন প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এই সেবার আওতায় যুক্ত নেই। ৯৯৯ কতৃপক্ষ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করিয়ে দেয়। আর সেই সব উপজেলা থেকে অ্যাম্বুলেন্স আসতে সময় লাগে ঘন্টার পর ঘন্টা।

ভুক্তভোগী এমনই এক যুবক ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার নয়াপাড়া গ্রামের জোবায়ের হোসেন। তিনি বলেন, গত বুধবার আমার এক নিকট আত্মীয় অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি ৯৯৯-এ কল করি। তারা আমাকে জানায় ঘোড়াঘাট উপজেলার প্রাইভেট কোন অ্যাম্বুলেন্স এই সেবার আওতায় যুক্ত নেই। পরে তারা আমাকে দিনাজপুর সদর উপজেলার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিতে চায়। পরে ৯৯৯ এর ওই কর্মকর্তাকে আমি সদর উপজেলার দুরত্ব সম্পর্কে জানালে তিনি আমাকে পাশ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সাথে যোগযোগ করিয়ে দেন। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স আমার গন্তব্যে আসতে দেড় ঘন্টার মত সময় নেন। আবার ভাড়াও দিতে হয় দ্বিগুনের অধিক।

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আনোয়ার বলেন, আমি কিছুদিন আগে এখানে যোগদান করেছি। সচল থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সের যান্ত্রিক কিছু ত্রুটির মেরামত এবং নতুন আরো একটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার জন্য সিভিল সার্জনকে আমি জানিয়েছি। অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি এসব অ্যাম্বুলেন্স রক্ষনাবেক্ষণের জন্য সরকারী বরাদ্দের বিষয় রয়েছে। এছাড়াও আমাদের চালক সংকট। পূর্বে আমাদের দুজন চালক ছিলেন। তারমধ্যে একজনের অন্যত্র বদলী হয়েছে। অপর একজন মামলা সংক্রান্ত সমস্যায় বরখাস্ত হয়ে আছে। বর্তমানে হাসপাতালের মালি সচল ওই একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসেবে কাজ করছে।

লোটাস/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.