কুড়িগ্রাম বাজারে অস্থিরতা, বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে খোলায়

কুড়িগ্রামে ভোজ্য তেলের বাজারগুলোতে অস্থিরতা দেখা গেছে। রমজান শুরুর এক মাস আগেই বাজারে ‘সংযম’ ভেঙ্গে পড়েছে। জেলার বাজারগুলোতে মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। ‘সরবরাহ নেই’ এমন অজুহাত তুলে বাজার থেকে সয়াবিন তেলের ৫ লিটার ও তিন লিটার বোতল উধাও হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৮মার্চ) সকালে কুড়িগ্রামের জিয়া বাজার ও পৌর বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ক্রেতারা বলছেন, তারা পাঁচ লিটার সয়াবিন কিনতে গেলে দুটি দুই লিটার এবং একটি এক লিটার বোতল ধরে দিচ্ছেন দোকানিরা। এতে তাদেরকে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ৩৩৫ টাকায়, এক লিটারের তেল ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর যারা একবারে ৫ লিটার নিতে চাইছেন তাদের বাধ্য হয়ে ১৭০ টাকা দরে খোলা তেল কিনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে,যারা বোতলজাত তেল একেবারে কিনতে পারছেন না। তারা বাধ্য হয়ে খোলা তেল খুচরো ভেদে পলিথিনে ১০০ গ্রাম ২০ টাকা,২৫০ গ্রাম ৪৩ টাকা হিসেবে কিনছেন স্বল্প আয়ের মানুষরা। খোলা তেল ক্রেতারা অভিযোগ করছেন বোতলজাত তেল খুলে, খোলা তেলের টিনে ঢেলে সেই তেল বাড়তি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তুলছেন অনেক ক্রেতা।

কুড়িগ্রামের জিয়া বাজার সংলগ্ন পাইকারি বাজারে গিয়ে যায়, প্রত্যেক দোকানে এক লিটার ও দুই লিটার বোতলজাত সয়াবিন পাওয়া গেলেও তিন লিটার ও পাঁচ লিটার বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। দু’একটি দোকানে একটি কিংবা দুটি বোতল পাওয়া গেলেও তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বোতল প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছেন । আর খোলা তেল ক্রেতাদের নিতে বেশি উৎসাহিত করছেন ।

জিয়া বাজারের মুদি দোকানদার মমিন জানান, ‘আমার কিছু করার নাই। আমি নিজে বেশি দামে কিনেছি। কোম্পানি বেশি দাম নিলে আমি কী করবো। সরবরাহ না থাকলেও ক্রেতা ধরে রাখার জন্য আমাকে ম্যানেজ করে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দোকানীর কর্মচারী বলেন, ‘৫ লিটারের বোতল গুলা মহাজনরা খুলে বিক্রি করতেছে। যাতে বোঝা না যায় এজন্য বোতলের গায়ের লেভেল খুলে,খোলা তেল বলে বিক্রি করা হচ্ছে। আর ৩ লিটার বোতল গুলা স্টক করতেছে দাম বাড়লে বিক্রি করবে।’

তেল কিনতে আসা শহিদুল ও আনন্দ নামে দুই ক্রেতা বলেন, ‘প্রতি মাসে আমাদের মেসে ৫ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে হয়। আজ কোথাও ৫ লিটার আর তিন লিটার বোতলের তেল পাচ্ছি না। একাধিক বোতল নিলে আবার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খোলা তেল কিনলাম ।’ তিনি আরো বলেন,’বাজার জুড়ে তেলের নৈরাজ্য চলছে। আমাদের মতো ক্রেতাদের দেখার কেউ নেই।’

তীর সয়াবিন তেলের ডিলার মেসার্স আমীর এন্ড সন্স এর স্বত্তাধিকারী শাহের আলী বলেন, ‘আমরা কোম্পানির অনুকূলে টাকা পাঠিয়েও চাহিদা অনুযায়ী ৫ লিটার ও ৩ লিটার বোতলে সয়াবিন পাচ্ছি না। দুই দিন ধরে আমাদের স্টকে এই পরিমাপের সয়াবিন বোতল নেই। ফলে আমাদের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছি না।’

শাহের আলী আরো বলেন, ‘কোম্পানি কেন দিচ্ছে না তা আমরা জানি না। তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার খবরে ক্রেতারাও বেশি করে তেল কিনতে ভিড় করছেন।’ অন্য কোম্পানির সয়াবিনের সরবরাহে আরও বেশি সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।

কৃত্রিম সংকট নিরসন ও রমজানকে সামনে রেখে বাজার তদারকি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান, কুড়িগ্রাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বাজার তদারকি বাড়িয়েছি। যারা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করবেন এবং নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে নিত্যপণ্য বিক্রি করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুজন/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.