September 26, 2022

অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হাসপাতালে ভর্তি করে ধর্ষক নিজেই। এরপর গভীর রাতে আবারো হাসপাতালেই ধর্ষণ করা হয় ওই ছাত্রীকে। এর কিছুদিন পর আবারো বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটানটি ঘটেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়।

এ ঘটনায় এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় একটি মামলা করেন। দুপুরেই কলাপাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তদের। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটককৃতরা হলেন- মাসুম (২৩), গোপাল চন্দ্র মিস্ত্রী (২২) ও শাকিল (২৫)। তাদের সবার বাড়ি কলাপাড়া পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ওই কিশোরী। গত ২৩ ফেব্রয়ারি সকালে কলাপাড়া হাসপাতালে করোনার টিকা নিতে আসে সে। এসময় মাসুমের সাথে পরিচয় হয় তার। এরপর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। ৮ মার্চ বিকেলে তাকে কৌশলে বাসা থেকে বের করে আনে মাসুম। এরপর নিয়ে যান টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামে।

বিকেল বেলা ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করেন তারা। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই গ্রামের একটি তালগাছের নিচে মাসুম ও শাকিল ধর্ষণ করে ওই কিশোরীকে। এসময় কিশোরী অসুস্থবোধ করলে তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন তারা।

হাসপাতালে ভর্তি থাকাবস্থায়ই গভীর রাতে আবারো ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে মাসুম। পরে কিশোরীকে হাসপাতালে রেখে চলে যান তিনি। এরপর ৯ মার্চ খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে কলাপাড়া হাসপাতালের সামনে দেখা যায় ওই কিশোরীকে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ওই কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখান মাসুম। এজন্য তার পরিবারকে কিছুই জানায়নি কিশোরী। ১১ মার্চ দুপুরে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিল সে। পথে বিয়ের প্রলোভনে মাসুম, শাকিল ও গোপাল তাকে উপজেলার পাখিমারা এলাকায় নিয়ে যান। পরে মাসুম তাকে বিভিন্ন স্থানে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

ওই শিক্ষার্থীর পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে সোমবার (২১ মার্চ) কলাপাড়া থানা পুলিশকে জানায়। পরে রাতেই পৌর শহরের রহমতপুর এলাকা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম জানান, ওই কিশোরী আপাতত সুস্থ রয়েছে। তাকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বার্তাবাজার/না. সা.

Leave a Reply

Your email address will not be published.