October 6, 2022

বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে দালালরা আমাকে ইতালি নেওয়ার স্বপ্ন দেখায় এবং লেবানন ও সিরিয়া ঘুরিয়ে লিবিয়া নেয়। এসময় কন্টাক্টের মাধ্যমে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নেয়। পরে আবার আমাকে আটকে রেখে নির্যাতন করে ৬ লাখ টাকা নিয়ে গেম করায়। তারপর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি নেওয়ার পথে কোস্টগার্ড আমাদের আটক করে। ধরা পড়ার পর দালালরা কোন খোজ নেয় নাই।

এরপর আমাদেরকে খামচাখামচি জেলে বন্দী করে। সেইটা ছিলো একটা কসাইখানার ব্লিডিং। সেখানে সাড়ে ৪ মাসসহ মোট ৬ মাস জেলে ছিলাম। কোন দিনের আলো দেখতে পারি নাই। সারাদিনে একটা খবজা (পেচানো রুটির মতো) খেতে দিতো। পানি চাইলে মারধর করতো।

এ কথাগুলো কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের কাছে বলছিলেন লিবিয়ার ভয়াবহ কারাগার খামচাখামচি জেল থেকে বাড়ি ফিরে আসা মো. রাকিবুল শেখ (২৫)। তিনি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের ভ্যান চালক কালাম শেখের ছেলে। একইসাথে বাড়ি ফিরেছেন আমগ্রাম ইউনিয়নের পিরের বাসা এলাকার বাসিন্দা মহিদুল (২৬)।

রাকিবুল আরো বলেন, লিবিয়ায় মোট এক বছর ছিলাম। বাংলাদেশ দুতাবাস অনেক চেষ্টা চালিয়ে আমাদেরকে উদ্ধার করেছে। দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি এ ঘটনায় জড়িত দালাল রাজৈর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, গোবিন্দপুর গ্রামের রহম বেপারীর ছেলে মেরাজ বেপারী ও তার বড় ভাই মাসুদ বেপারীর বিচার চাই।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব কোন সম্পত্তি না থাকায় অন্যের জায়গায় বসবাস করে রাকিবুল ও তার পরিবার। সংসারের মেঝো ছেলে তিনি। বাবা, মা, দাদি, বড় বোন ও ছোট ভাইকে নিয়ে গঠিত সংসারের হাল ধরতে ‘জনপ্রিয় বাগদাদ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি’তে কাজ করতেন। পরে ২০২১ সালের মার্চ মাসে আর্থিকভাবে পারিবারে স্বচ্ছলতা আনার আশায় রাকিবুলকে ধার-দেনা করে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাঠায় পরিবারের লোকজন।

তাকে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা নেয় রাজৈর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের রহম বেপারীর ছেলে দালাল মেরাজ বেপারী ও তার বড় ভাই মাসুদ বেপারী। এরপর লিবিয়ায় নিয়ে মারধর করে ও বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে রাজৈর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের মাধ্যমে আরো ৩ লাখ টাকা নেয় তারা।

এর কিছুদিন পরেই কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ইউনিয়নের মো. ছাপতি সাহার ছেলে মো. তোতা সাহা নামে আরেক দালাল ফোন করে গেম করানোর জন্য ৬ লাখ টাকা চায়। সেই টাকাও মিজানুর রহমান কাউন্সিলরের কাছে দিতে বলে। পরে টাকা পরিশোধ শেষে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর দিয়ে অবৈধ পথে ইতালি পাঠানোর সময় লিবিয়ার কোস্টগার্ডের হাতে আটক হয় রাকিবুল।

এসময় আটক হওয়া সকলকে খামচাখামচি জেলে বন্দী করে। একইভাবে ভোগান্তির শিকার হয় মহিদুল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ দুতাবাস চেষ্টা চালিয়ে লিবিয়ার ওই জেল থেকে রাকিবুল ও মহিদুলসহ ১১৪ জনকে উদ্ধার করে দেশে এনে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে বাড়ি পাঠায়।

এ ঘটনায় দালালদের কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা। এদিকে সাংবাদিকরা বিভিন্ন দপ্তরে ফোন দেওয়ার পর রাকিবুলের বাবা কালাম জানান, দালালরা কিছু টাকা ফেরত দিয়ে বিষয়টি মিমাংশা করেছে।

রাজৈর থানার ওসি মো. শেখ সাদিক জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোহেল/বার্তাবাজার/না. সা.

Leave a Reply

Your email address will not be published.