October 1, 2022

প্রতিযোগিতার দৌড়ে থাকা নয়, সারাবছর মন দিয়ে শিল্পচর্চা করাতেই বিশ্বাসী দুই বাংলার সমান জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। যার স্বীকৃতিও পাচ্ছেন নিয়মিত। তৃতীয়বারের মতো ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার ফিল্মফেয়ার অর্জন করলেন তিনি। পুরস্কার প্রাপ্তিসহ বাংলাদেশ ও কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারিফ সৈয়দ

ফিল্মফেয়ারে হ্যাট্টিক করলেন। কেমন লাগছে?

আমি তো ভেবেছিলাম দু-বার পুরস্কারটি পেয়েছি এবার হয়তো পাবো না। সেই ভাবনায় এমনি গিয়েছিলাম অংশ নিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সম্মানটি আবারও পেলাম। ফিল্মফেয়ার এডিটর ফোন করে আমার খুব প্রশংসা করেছেন। সিনেমাটি ৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেল। আমি সবচেয়ে খুশি হয়েছি ক্যামেরা ক্রু সামিউল পুরস্কার পাওয়ায়। আমার মনে হলো এবারের আয়োজনে পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে শৈল্পিক সিনেমাগুলোকে প্রধান্য দিয়েছেন আয়োজকরা।

এতে কলকাতার সহকর্মীদের মাঝে আপনার প্রতি ঈর্ষা বেড়ে যাবে মনে করছেন না?

দেখুন, যে কেউ একটি ভালো কাজ করলে আমারও মনে হয়, ইশ! আমি যদি ওর মতো অভিনয় করতে পারতাম! সেই অর্থে ঈর্ষার বিষয়টি টের পাই না। কলকাতার সহকর্মীরা আমাকে ঈর্ষা করে না, ভালোবাসেন। সাধারণ দর্শকরা আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে এটা টের পাই। যা আমার কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘদিন টলিউডে কাজ করছেন। এই ইন্ডাস্ট্রিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এটাকে আমি টলিউড না কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলবো। একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, কলকাতাই কিন্তু সংস্কৃতিক চর্চার তীর্থস্থান। অন্য ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে মৌলবাদী চিন্তা-চেতনা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই দেখতে পাবেন, যা কলকাতাতে নেই। কলকাতায় কাজের ক্ষেত্রে এটাই আনন্দ। এখানে কাজের স্বাধীনতা আছে।

কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কলকাতায় কাজ শুরু করেছিলেন কি-না?

না, মোটেও কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। বাংলাদেশেও কাজের স্বাধীনতা ছিল, কিন্তু আমি তো ব্লক হয়ে যাচ্ছিলাম। আমি যখন কোনো উদ্যম নিয়ে বসে থাকবো তখন তো আমাকে সেভাবে ব্যবহারও করতে হবে! অভিনয়টা তো আমার একার কাজ না। কেউ যদি আমাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে তাহলে আমি সেরাটা দিয়ে অভিনয় করার জন্য বসে আছি।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সিনেমার কতটা উন্নতি হয়েছে মনে করছেন?

আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের ভালো একটা সময় যাচ্ছে। এখন অনেক মেধাবীরা কাজ করছেন। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশ ও কলকাতার স্বাধীনধারার চলচ্চিত্রগুলোই বেশি ভালো হচ্ছে।

বারবার বলিউড সিনেমাকে ‘না’ বলছেন। এটা কী বলিউডের প্রতি অনিহা নাকি বিশেষ কোনো কারণ আছে?

আসলে বলিউড থেকে প্রস্তাব পাই, কিন্তু মনপুত না হলে তো ফাইনালি বলার কিছু থাকে না। তবে আমার কাছে মনে বড় ছোট বলে কিছু নেই। ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.