ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে নতুন ধোঁয়াশা

শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা যেনো থামছেই না। এবার সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া যায় মৃত্যুর আগে তার কক্ষে ২ জন নারী প্রবেশ করেন। এমন খবরই প্রকাশ করেছে মেইল অনলাইন। থাইল্যান্ডের কোহ সামুই দ্বীপের যে রিসোর্টে শেন ওয়ার্ন মারা গেছেন, শুক্রবার সেখানে প্রবেশ করেন ৪ নারী। এদের মধ্যে দু’জন যান ওয়ার্নের কক্ষের দিকে। বাকি দু’জন চলে যান তার বন্ধুদের রুমে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে এদের।

বিগত শুক্রবার (৪ মার্চ) দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে কো সামুইয়ের সামুজানা রিসোর্টে পৌঁছান ওই চার নারী। এদের মধ্যে দু’জন ওয়ার্নের রুম থেকে বের হন ২টা ৫৮ মিনিটে। এর ঠিক ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট বাদে ওয়ার্নকে নিথর অবস্থায় আবিষ্কার করেন তার বন্ধুরা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুই নারী ওয়ার্নকে জীবিত দেখা শেষ ব্যক্তি।

এই ঘটনায় মেইল অনলাইন জানায়, ওয়ার্নের কক্ষে প্রবেশ করা নারীরা কেন গিয়েছিলেন সেই কারণ অনুসন্ধান করেছে থাই পুলিশের একটি ইউনিট। তবে
সন্দেহজনক কিছু খুঁজে পায়নি তারা। ময়নাতদন্তেও বলা হয়েছে অজি কিংবদন্তি ক্রিকেটারের মৃত্যু স্বাভাবিক।

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত বডি ম্যাসাজের জন্য গিয়েছিলেন ওই দুই নারী। এ জন্য হোটেল স্টাফের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন ওয়ার্ন। এরপরে একজন থেরাপিস্টও আসেন ওয়ার্নের রুমে। আগে থেকে বুকড করা ছিলেন তারাও।

তবে রুমে প্রবেশ করতে পারেননি তারা। পেন নামের সেই থেরাপিস্ট বলেন, ‘আমি এবং আমার সঙ্গে সাহায্যকারী ছিল। আমরা গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেই। তবে ভেতর থেকে কোনো শব্দ ছিল না। আমরা তখন আমাদের প্রধানকে জানাই তিনি হয়তো ঘুমে, এখন ম্যাসেজ নিতে চাইছেন না।’

পরবর্তীতে নিচে অপেক্ষা করছিলেন জানিয়ে পেন আরও যোগ করেন, ‘আমরা পেডিকিউর, মেনিকিউর করতে এসেছিলাম। আমরা কিছুক্ষণ নিচে অপেক্ষা করি তবে তার আসার কোনো লক্ষণ না দেখে আমরা চলে যাই। আমরা ভেবেছিলাম তিনি ঘুমাচ্ছেন। পরের দিন তার মৃত্যুর খবর শুনে আমরা মর্মাহত হই।’

স্থানীয় পুলিশ প্রধান ইয়ুত্তানা সিরিসোমবাত বলেন, ‘সে (ওয়ার্ন) বডি ম্যাসাজের জন্য মেয়েদের ডেকেছিল। ওটা ছিল কেবল ম্যাসাজ। ওয়ার্নের মৃত্যু ম্যাসাজের কারণে হয়নি। তিনি সুস্থ ছিলেন না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘শুক্রবার দুপুরের দিকে চারজন নারী রিসোর্টে আসেন। তাদের দুজন ওয়ার্নের রুমে এবং বাকি দুজন চলে যান তার বন্ধুদের কক্ষে। প্রায় ৩টার দিকে ওই দু’জন ওয়ার্নের রুম ত্যাগ করেন। ৫টা ১৫ মিনিটে ওয়ার্নকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কিছুর যোগসূত্র নেই। আর রুমে কোনো অ্যালকোহল কিংবা ড্রাগসও পাওয়া যায়নি।’

ওয়ার্নের মেডিকেল রিপোর্টে দেখা গেছে, অ্যাজমা এবং বুকের সমস্যায় ভুগছিলেন ওয়ার্ন। এ জন্য ডাক্তারও দেখান তিনি। ওয়ার্নকে তার বন্ধু অ্যান্ড্রু নিওফিউটো অ্যাম্বুলেন্স আসার পূর্বে ২০ মিনিট সিপিআর দেন। তবে তাতে কোনো লাভ হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে ওয়ার্নকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানো হয়েছে। মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাষ্ট্রীয়ভাবে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

বার্তাবাজার/এম.এম

Leave a Reply

Your email address will not be published.