October 2, 2022

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আপাদমস্তক ভদ্রলোক ও বুদ্ধিমান ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এরশাদ আপাদমস্তক ভদ্রলোক ও বুদ্ধিমান ছিলেন। ওনার দৃষ্টি ছিল প্রসারিত। ফেব্রুয়ারি মাসে তার অসামান্য অবদান ছিল। উনি নিয়ম করেছিলেন সাইনবোর্ড বাংলায় হতে হবে, আদালতের রায় বাংলায় লিখতে হবে। ওনার আমলে কেউ না খেয়ে থাকেননি।’

বুধবার (২০ মার্চ) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জন্মদিনে ‘পল্লীবন্ধু’ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর একটি হোটেলে রাতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় পার্টি (জাপা)। পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের মনোনীত আট বিশিষ্টজনকে পদক তুলে দেন।

প্রথমবারের মতো দেওয়া ‘পল্লীবন্ধু’ পদক পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও। তিনি স্বাস্থ্যখাতে অবদানের জন্য এ পদক পেয়েছেন।

পল্লীবন্ধু পদক পাওয়া অন্য সাতজন হলেন- সাহিত্যে কবি ফজল সাহাবুদ্দিন (মরণোত্তর), কৃষিতে বিশিষ্ট কৃষি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, সংগীতে প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর (মরণোত্তর), শিক্ষায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম সিদ্দিক (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ গোলাম সরোয়ার টিপু এবং শিল্পে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল ওয়াহেদ বাবুল।

পল্লীবন্ধু পদকপ্রাপ্তদের একটি ক্রেস্ট, সম্মাননা পত্র এবং এক লাখ টাকা করে সম্মানি দেওয়া হয়। এছাড়া তাদেরকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রয়াত কবি ফজল সাহাবুদ্দিনের পক্ষে পদক নেন তার মেয়ে দিনা সাহাবুদ্দিন, এন্ড্রু কিশোরের পক্ষে পদক নেন তার স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু, ইঞ্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের পক্ষে তার মেয়ে আরিফা কবির, শিল্পপতি আব্দুল ওয়াহেদ বাবুলের পক্ষে তার ভাই এমএ রহিম পদক গ্রহণ করেন। অন্য চারজন নিজ নিজ পদক গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে শাইখ সিরাজ বলেন, পল্লী উন্নয়নে এরশাদের অবদান অনস্বীকার্য। তার সেই সময়ের কাজগুলো বাংলাদেশকে আজকের জায়গায় আসতে অনেক সহায়তা করেছে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে অনেক সময় লাগতো, এখন কৃষকরা সহজে পণ্য পৌঁছে দিতে পেরে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। এতে এরশাদের অবদান রয়েছে।

অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ বলেন, ‘আমি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ছিলাম। সেখানে দায়িত্বে থাকাকালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দারুণ সহযোগিতা পেয়েছি। কোনোদিন তিনি তদবির করতে কোনো চিঠি দেননি।’

অনুষ্ঠানে জিএম কাদের বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কৈশোর থেকে যৌবন ও শেষ জীবন পর্যন্ত তিনি একাধারে মেধাবী ছাত্র, তুখোড় খেলোয়াড়, সাহিত্যিক, কবি, দক্ষ প্রশাসক, জননন্দিত রাজনীতিবিদ ছিলেন।’

‘পল্লীবন্ধু পদক ২০২১’ প্রদান কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এম এম নিয়াজ উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বার্তাবাজার/জে আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.