October 2, 2022

রাজধানীর একটি কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন মো. কাউসার আলম। বেশকিছুক্ষণ তিনি একটি ইলিশের দোকানে সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন এবং অন্য ক্রেতাদের সঙ্গে বিক্রেতাদের দরকষাকষি দেখছেন। একটু কাছে গিয়ে কথা হলে তিনি জানান, বাজারে এসেছেন ইলিশ মাছ কিনতে। এর আগে কয়েকটি স্থান ঘুরেও নাগালে আসেনি মাছের দাম।

আজ মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) ছুটির দিন (আশুরা উপলক্ষে) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মাছ বাজার ঘুরে কাওসার আলমের মতো এমন অনেকেরই দেখা পাওয়া যায়। বিক্রেতারাও বলছেন, দাম শুনেই অনেকে চলে যাচ্ছেন বিকল্প কিছু কিনতে।

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. কাওসার আলম ইলিশের দামের কথা জিজ্ঞেস করলে জানান, বাজারে ইলিশের দাম অনেক। আর আজকে বাজারে খুব বেশি ইলিশ মাছ দেখছি না। অন্য মাছ কিনেছি কিন্তু ইলিশ কিনতে পারিনি, বাজারে অনেকক্ষণ ঘুরে দামাদামি করে হিসাব মেলাতে পারিনি। যেমনটা ভেবে বাজারে এসেছিলাম তার চেয়ে দাম অনেক বেশি।

তিনি বলেন, ইলিশটা তো আমাদের দেশে অনেক সহজলভ্য হওয়ার কথা ছিল, কারণ নদীতে-সাগরে তো শুনি ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। কিন্তু সেগুলো কই, বাজারে এলে তো দাম কম থাকার কথা। খোঁজ নিয়ে দেখবেন হয়তো অধিকাংশই বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিষয়টা এখন এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে আমাদের দেশের ইলিশ আমরাই খেতে পারছি না।

ইলিশের এখন যেই দাম আছে, এই দামে কী মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্তরা কিনতে পারবে— এমন প্রশ্নের জবাবে এই মাদ্রাসা শিক্ষক আরও বলেন, এখনো মাছের দাম ওই পরিমাণ কমেনি যে সবাই কিনতে পারবে, খেতে পারবে। নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তদের জন্য এই দামে ইলিশ কেনা সম্ভব না। তবে রপ্তানি কমিয়ে যদি দেশের মানুষের স্বার্থে দাম কমিয়ে দেওয়া হয় তাহলেই হয়তো সম্ভব।

ইলিশের দাম প্রসঙ্গে কথা হয় আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী মেহেদী হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, সারা বাজার ঘুরেছি, সবার কাছেই একই দাম। একটু তো কমবেশি হওয়ার কথা, কিন্তু না। দাম খুবই চড়া।

তিনি বলেন, ছুটির দিনে ভেবেছিলাম পরিবার মিলে ইলিশ খাবো। কিন্তু কেনা হয়নি। ইলিশ না নিয়ে মাংস কিনে নিয়েছি। কী আর করা! এই মৌসুমেও যদি বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ না থাকে, আর আমরা যদি স্বাচ্ছন্দ্যে কিনতে না পারি, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়।

কাউসার আলম, মেহেদী হাসানের মতো এমন আরও অনেকের সঙ্গেই ইলিশের দাম প্রসঙ্গে কথা হয়। সবার মুখে হতাশা আর ক্ষোভ থাকলেও প্রত্যাশা একটাই, ‘দাম কমুক, হাতের নাগালে আসুক’।

এদিকে অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার দাম বেশি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করছেন ব্যবসায়ীরাও। তারা বলছেন, চাঁদপুর-বরিশালসহ এসব এলাকার নদীগুলোতে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। যেকারণে বাজারে ইলিশের পরিমাণও কম, আর দামটাও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চড়া।

বিক্রেতা সিরাজ মিয়া বলেন, ইলিশের বাজার বর্তমানে বাড়তির দিকে। মাছ বুঝে দামের পার্থক্য। আবার অঞ্চল বেদেও দামের পার্থক্য রয়েছে। পদ্মার ইলিশের দাম সবচেয়ে বেশি, এরপর আছে বরিশালের ইলিশ, দামে কিছুটা কম আছে চট্টগ্রামের ইলিশ।

কোন মাছের কেমন দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৮০০ গ্রামের ইলিশ আমরা বিক্রি করছি ১০৫০ টাকা কেজি। এক কেজি ১০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি করছি ১৪০০ টাকা কেজি। এক কেজি ৪০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি করছি ১৬৫০ টাকা এবং দুই কেজির ইলিশ বিক্রি করছি ১৮০০ টাকা কেজি দামে।

মাছ বিক্রেতা রফিক উদ্দীন বলেন, দিন যায় আর প্রতিদিন ইলিশের বাজার ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে বাড়ে। কারণ হলো নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যায় না। সাগরেও জাহাজ যেতে পারছে না। আর বাজারে যদি মাছ কম থাকে, তাহলে দামটা একটু বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক।

ইলিশের দাম কবে কমবে, জানতে চাইলে এই বিক্রেতা বলেন, আমাদের বাজারের হিসাব হলো- নদীতে মাছ কমলে দেশের বাজার গুলোতে মাছের দাম বাড়বে। সেই সাথে নদীতে মাছ বাড়লে বাজারে মাছের দাম অনেকাংশে কমে আসবে। কিন্তু কবে থেকে আসলে দাম কমবে, সেটি এভাবে বলা যাচ্ছে না।

বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.