‘আফিফ-মিরাজের ব্যাটিং ছিল অবিশ্বাস্য’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের এদিনের সিরিজের ১ম ম্যাচে সফরকারীদের করা ২১৫ রানের জবাব দিতে নেমে ১৮ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ৪৫ রানের মাথায় হারিয়ে বসে ষষ্ঠ উইকেট। এমন অবস্হা থেকেও ম্যাচ জেতা যায়?

দুই তরুণ আফিফ হোসেন ও মেহেদি হাসান মিরাজের ব্যাটে গতকাল কঠিন পরিস্থিতি থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল বললেন, তার বিশ্বাস ছিল না ৪৫ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর জিতে যাবে দল।

শুধু তামিম কেন, কেই-বা ভেবেছিলেন যে ম্যাচ জিতে যাবে বাংলাদেশ! ফজল হক ফারুকীর পেসে মাত্র ৪৫ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর ব্যাটসম্যান বলতে অপরাজিত ছিলেন কেবল আফিফ এবং মিরাজই। তাদের মধ্যে আফিফকে পুরোদমে ব্যাটসম্যান ধরা হলেও মিরাজ মূলত বোলিং অলরাউন্ডার। ডানহাতি তরুনের ব্যাটিং স্বত্তা খুব বেশি উজ্জ্বল নয়। এই দুজন মিলে যে অবিস্মরণীয় এক জুটি গড়ে দলকে জেতাবেন এমন ভাবনা কারো মনেই হয়তো আসেনি।

গতকাল বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১৭৪ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন দুজন। শুরুর ধসের পর বাংলাদেশ তাতে ম্যাচ জিতেছে ৪ উইকেটে। ম্যাচ সেরা মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৮১ রানে, আফিফ অপর প্রান্তে অপরাজিত ছিলেন ৯১ রানে।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ‘সত্যি বলতে- না, আমি একবারও ভাবিনি (জেতা সম্ভব)। যদি এখন বলি, আমি বিশ্বাস করেছিলাম তাহলে মিথ্যা বলা হবে। ২১৬ রান তাড়া করতে নেমে ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারানো সত্যিই খুব কষ্টের।’

আফগানিস্তানের শক্ত বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে মিরাজ-আফিফ যেভাবে খেলেছেন তাতে গর্ব হচ্ছে তামিমের। ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি খুবই খুশি। শুধু মাত্র দল জিতেছে বলেই খুশি নই। যেভাবে দুই তরুণ ক্রিকেটার খেলেছে, অবিশ্বাস্য। আমার কোনো শব্দ নেই তাদের ইনিংসের বর্ণনা করার। খুবই খুশি এবং গর্ব করছি। আমি হৃদয় থেকে প্রার্থনা করছি এটাই তাদের শেষ নয়, এখান থেকেই তাদের যাত্রা শুরু হলো। আমাদের জন্য তাদের আরও ম্যাচ জিততে হবে। খুব খুশি তাদের নিয়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সহজ ছিল না ওদের বিপক্ষে ব্যাটিং করা (রশিদ-নবী-মুজিব)। আমি সব সময়ই বলেছি তাদের দারুণ বোলিং অ্যাটাক আছে। বিশেষ করে তাদের স্পিন অ্যাটাক দুর্দান্ত। কিন্তু তাদেরকে যেভাবে সামলে নিয়েছে, সেটা দেখে আমি অবাক হয়েছি।’ দুর্দান্ত এই জয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ যথাক্রমে ২৫ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.